‘ভোট করানোর’ চেষ্টার অভিযোগ, তবু শান্তিতেই কাটাল বিধাননগর

সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। মোট দু’লক্ষ ৩৮৭৭ জন ভোটারের জন্য ছিল ২৯০টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। বিকেলে বিদায়ী মন্ত্রী সুজিত বসু জানান, জয়ের বিষয়ে তিনি ১০০ ভাগ নিশ্চিত।

কাজল গুপ্ত

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৮
অপেক্ষা: বুথের সামনে লম্বা লাইন ভোটারদের। রয়েছে পুলিশি প্রহরা। বুধবার, বিধাননগরে।

অপেক্ষা: বুথের সামনে লম্বা লাইন ভোটারদের। রয়েছে পুলিশি প্রহরা। বুধবার, বিধাননগরে। ছবি: পাপন চৌধুরী।

ক্ষোভের ধিকি ধিকি আগুন জ্বলছিলই। দমকলমন্ত্রী তা নেভাতে পারলেন কিনা, তা জানা যাবে ৪ তারিখ। কিন্তু বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া বুধবার নির্বিঘ্নেই ভোট মিটল বিধাননগর কেন্দ্রে।

সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। মোট দু’লক্ষ ৩৮৭৭ জন ভোটারের জন্য ছিল ২৯০টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। বিকেলে বিদায়ী মন্ত্রী সুজিত বসু জানান, জয়ের বিষয়ে তিনি ১০০ ভাগ নিশ্চিত। বাম ও বিজেপির দাবি, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় থাকলেও একাধিক ওয়ার্ডে বুথ জ্যাম, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা-সহ কিছু অভিযোগ উঠেছে। তবু তাদের দাবি, বিধাননগরে রেকর্ড শতাংশ ভোট পড়েছে।

পুর নিয়োগে দুর্নীতি ঘিরে ইডি-র তলব, দলীয় নেতা নির্মল দত্তের গ্রেফতারি, পরিষেবা নিয়ে নানা অভিযোগ, লোকসভা ভোটে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ভোটে পিছিয়ে থাকা-সহ বিভিন্ন কারণে চাপে ছিলেন সুজিত। যদিও তাঁর দাবি, জয় নিয়ে সংশয় নেই। ব্যবধানও বাড়বে। বিধাননগর পুরসভার বিভিন্ন সংযুক্ত এলাকা-সহ সল্টলেকের একাধিক বুথে যান তিনি।

এ দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৮৪ শতাংশ। ভিড় থাকায় তার পরেও ভোটগ্রহণ চলতে থাকে। লেক টাউনের বাসিন্দা বাণী মজুমদার (৭৪), হুইলচেয়ার-নির্ভর হরগোবিন্দ দাস (৮৪) কিংবা কোমর ভাঙা অবস্থাতেও হুইলচেয়ারে ভোট দিতে আসা মীনা সেনগুপ্তের (৮৩) পাশাপাশি প্রথম ভোট দিতে আসা শালিনী সাহার প্রত্যয় বুঝিয়ে দিচ্ছিল, ভোটারেরা ভোট দিতে কতটা মুখিয়ে ছিলেন। সল্টলেকের ভারতীয় বিদ্যাভবন, নাওভাঙা, ছয়নাবি, সুকান্তনগর, নয়াপট্টি, মহিষবাথান এলাকায় ভোটের লম্বা লাইন দেখা যায়।

এ দিন ‘ভূতুড়ে’ ভোটার খুঁজছিলেন বিরোধীরা। ভারতীয় বিদ্যাভবনের সামনে এ নিয়ে বচসায় জড়ান তৃণমূল প্রার্থীর মুখ্য নির্বাচনী এজেন্ট ও বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বিজেপির অভিযোগ, বুথ জ্যাম করার চেষ্টা হচ্ছিল। বুথের মধ্যে অবাঞ্ছিত লোকজন ছিলেন। তাঁদের বার করা হয়েছে। অভিযোগ খারিজ করে তৃণমূলের দাবি, বিজেপি অযথা ঝঞ্ঝাট তৈরির চেষ্টা করছিল। যদিও বামেরাও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক ওয়ার্ডে একই অভিযোগ তোলেন। কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎ মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানান, এ বারে মূল সল্টলেকেও রেকর্ড শতাংশ ভোট পড়েছে। তাতে তিনি উৎসাহী ও আশাবাদী।আর বিজেপি প্রার্থী জানান, তিনি জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত।বাম প্রার্থী সৌম্যজিৎ রাহার আরও অভিযোগ, একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূল ‘ভোট করানোর’ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে।

বাসিন্দারা অবশ্য নির্বাচন কমিশনকে এমন শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন।যদিও এ দিন শুরু থেকেই তৃণমূল অভিযোগ করছিল যে, ভোটদান প্রক্রিয়ার গতি ছিল মন্থর। তাতে বাসিন্দাদের হয়রানি হয়েছে। ভোটের প্রচারপর্ব শেষ হতেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অতি সক্রিয় হয়েছে। তাতেই উধাও হয়েছে ‘ভূতুড়ে’ ভোটার।

এ বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী বললেন, ‘‘গণতন্ত্রের উৎসবে মানুষ ভোট দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উৎপাত আর বিক্ষিপ্ত কিছু বিষয় ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। ভোটারেরা উন্নয়নের সঙ্গেই থাকবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bidhannagar Voting

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy