E-Paper

দুষ্কৃতীদের সন্ধান চালাতে জেলার কর্তাদের নির্দেশ

অতীতের ভোটগুলিতে যারা গোলমাল-অশান্তি পাকিয়েছিল, তাদের এমনিতেই চিহ্নিত করে রেখেছে কমিশন। সে ব্যাপারে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৮

—প্রতীকী চিত্র।

গোলমাল পাকাতে পারে, এমন দুষ্কৃতীদের সন্ধান এখন থেকেই চালাতে বলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার জেলা-কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। সেই বৈঠকেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে চলতি মাসের শেষে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে ফের আসতে পারেন উপনির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। এ দিনও কমিশন জেলা-কর্তাদের স্পষ্ট করে দিয়েছে, কর্তব্যে গাফিলতি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তাতে রাজ্য সরকারের সম্মতির জন্য অপেক্ষা করবে না কমিশন। প্রাক্তন জেলাশাসকদের একাংশ এখনও সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। দ্রুত তা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সরকারি বাসভবন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নতুন জেলাশাসকদের।

অতীতের ভোটগুলিতে যারা গোলমাল-অশান্তি পাকিয়েছিল, তাদের এমনিতেই চিহ্নিত করে রেখেছে কমিশন। সে ব্যাপারে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়। সূত্রের দাবি, এ দিনের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দ্রুত তেমন ব্যক্তিদের আটক করতে হবে। তা ছাড়া আরও যারা ভোটে গোলমাল পাকাতে পারে, তেমন দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে হবে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনগুলিকে। গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত এমন জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায় ছিলেন ২৫,৩৮০ জন। এখনও পর্যন্ত তা কার্যকর হয়েছে ৮৯৩ জনের বিরুদ্ধে। এখনও বাকি রয়েছে প্রায় ২৪ হাজার। সে কাজ দ্রুত শেষ করার বার্তা দিয়েছে কমিশন। বলে দেওয়া হয়েছে সব এলাকায় ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে এমন দুষ্কৃতীদের যেন দেখা না মেলে।

এ দিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বৈঠক করেন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গেও। তাঁদের করণীয় স্থির করে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক এবং পর্যবেক্ষকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোটে বাধাদান, এলাকায় হুমকি-ভয় দেখানো, ভোট দিতে যাওয়ার পরে আটকানো বা ভীতি প্রদর্শন, বুথ জ্যাম, ছাপ্পা ভোট ঠেকাতে হবে যে কোনও মূল্যে। উৎসবের সময়গুলিতে জেলায় জেলায় আইনশৃঙ্খলার উপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে প্রত্যেককে। তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বজায় থাকে, সে ব্যাপারেও নজর রাখতে হবে সতর্ক ভাবেই। জেলা-কর্তাদের উদ্দেশে কমিশনের বার্তা—বিধি মেনে কাজ করতে হবে। কোনও ভোটকেন্দ্রে গোলমাল হলে পুনর্নির্বাচনের পথেই হাঁটবে কমিশন। কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত গাফিলতি হলে সাসপেন্ড পর্যন্ত করা হতে পারে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে। ভোট মিটলে সেই শাস্তির মেয়াদ যে ফুরোবে, তা নয়।

এখনও পর্যন্ত স্থির রয়েছে, চলতি মাসের শেষেই রাজ্যে আসতে পারেন জ্ঞানেশ ভারতী। জেলা সফর তিনি করবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পাশাপাশি, এখন ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। আরও প্রায় ১৯২০ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হচ্ছে রাজ্যে। ৩১ মার্চ, ৭ এপ্রিল, ১০ এপ্রিল, ১৩ এপ্রিলের মধ্যে বাহিনী চলে আসবে। দরকার হলে আরও কিছু পরিমাণ বাহিনী পাঠাতে পারে কমিশন। সেই সূত্রের বক্তব্য, একেকটি দফায় ২৪০০-২৫০০ কোম্পানি করে বাহিনী ব্যবহার করা হতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Anti social Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy