পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের আগের দিন, শুক্রবারও ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক অশান্তি অব্যাহত রইল রাজ্যে। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য বার বার শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানাচ্ছেন। উল্টো দিকে, অব্যাহত রয়েছে পথের প্রতিবাদও। বাম দলগুলির পাশাপাশি নানা জায়গায় এ দিন পথে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও।
নদিয়ার তাহেরপুর থানার বারাসাত পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে দু’পক্ষের এক জন করে গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দু’পক্ষই তাহেরপুর থানায় অভিযোগ করেছে। পুলিশ দু’পক্ষের এক জন করে কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। খেজুরিতেও দলের কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। পাশাপাশি, উত্তপ্ত রয়েছে ভাঙড়। সকালে উত্তর কাশীপুরের চণ্ডীহাট এবং বিজয়গঞ্জের ভুমরু গ্রামে তৃণমূল ও আইএসএফ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। স্থানীয়দের দাবি, বেশ কয়েক দিন ধরেই ভুমরু গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি চলছিল। উভয় পক্ষের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ।
এরই মধ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে উত্তর দিনাজপুরে মিছিল করেছে তৃণমূল। বিজয় উল্লাসের নামে খেটে খাওয়া মানুষের রুটি-রুজির উপরে আক্রমণের অভিযোগ তুলে ধর্মতলায় লেনিন মূর্তি থেকে বিভিন্ন বাম দলের ডাকে মিছিল হয়েছে। সেখানেই পথসভা থেকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, “ফলপ্রকাশের পরে লেনিন মূর্তি বিকৃত করা হচ্ছে। লেনিন মানুষকে বিভক্ত করেননি। তিনি মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠকে জোরদার করতে সাহায্য করেছেন। যাঁরা সরকার গঠনের শপথ নেবেন, তাঁরা মানুষকে ধর্ম, বর্ণ, জাতের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করতে চাইছেন। সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের নজর রাখতে হবে।” বক্তৃতা করেছেন সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআই (এমএল) লিবারেশন, আরএসপি নেতৃত্বও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)