বহিরাগত-তত্ত্বেই তৃণমূলকে ধাক্কা, বলছেন বিজেপি নেতারা

গেরুয়া শিবিরের দাবি, বহিরাগত প্রশ্নে বিজেপিকে এ যাত্রায় প্রত্যাঘাতে সুবিধা করে দিয়েছিল তৃণমূলই। লোকসভা নির্বাচনে শত্রুঘ্ন সিন্‌হা, কীর্তি আজ়াদ, ইউসুফ পাঠানের মতো নেতাকে টিকিট দিয়ে তৃণমূলই বাঙালি অস্মিতাকে উপেক্ষা করেছে বলে বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে প্রচারে নামে বিজেপি।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৭:৩৫

—প্রতীকী চিত্র।

পাঁচ বছর আগে ‘বহিরাগত-তত্ত্বে’ বিজেপিকে ধরাশায়ী করেছিল তৃণমূল। এ যাত্রায় সেই তত্ত্বই তৃণমূলের জন্য ব্যুমেরাং হয়েছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।

গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রচারের মুখ নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ, সাংগঠনিক নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের বহিরাগত বলে দাগিয়ে দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন যে, বিজেপি আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাইরের দল। ‘বহিরাগত’ বনাম ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’— এই লড়াইয়ে বিপুল জয় পায় তৃণমূল।

ঘটনা হল, এ যাত্রাতেও বিজেপির প্রচারের মুখ ছিলেন সেই মোদী-শাহেরাই। কিন্তু এ বার মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন বিজেপির পিছনে থাকা সাংগঠনিক জুটি ভূপেন্দ্র যাদব-সুনীল বনসলেরা। এ যাত্রাতেও ‘বহিরাগত’ প্রশ্নে আক্রমণ আসবে আঁচ করে গোড়া থেকেই পাল্টা আক্রমণে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা।

গেরুয়া শিবিরের দাবি, বহিরাগত প্রশ্নে বিজেপিকে এ যাত্রায় প্রত্যাঘাতে সুবিধা করে দিয়েছিল তৃণমূলই। লোকসভা নির্বাচনে শত্রুঘ্ন সিন্‌হা, কীর্তি আজ়াদ, ইউসুফ পাঠানের মতো নেতাকে টিকিট দিয়ে তৃণমূলই বাঙালি অস্মিতাকে উপেক্ষা করেছে বলে বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে প্রচারে নামে বিজেপি। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘মানুষের কাছে আমাদের সহজ প্রশ্ন ছিল, কীর্তি আজ়াদ,শত্রুঘ্ন সিন‌্‌হা এঁরা কারা? এঁরা কি বহিরাগত নন? রাজ্যের মানুষের, এলাকার সুখে-দুঃখে এঁরা কোথায় থাকেন? ভোটের ঠিক আগে ভিন্‌ রাজ্যের মেনকা গুরুস্বামীকে তৃণমূলের রাজ্যসভায় পাঠানো বিজেপির প্রচারের পালে আরও হাওয়া দিয়েছিল। আমাদের প্রশ্ন, তৃণমূল যদি বাংলার আবেগের কথা বলে, তা হলে বহিরাগতদের কেন টিকিটদেওয়া হল?’’

গেরুয়া শিবিরের দাবি, আমজনতার বড় অংশ তো বটেই, ওই সব এলাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ তৃণমূলকর্মীরাও ঘরোয়া ভাবে বিজেপির কর্মীদের যুক্তি মেনে নিয়েছিলেন। তার ফল এ বার দেখা গিয়েছে ভোটযন্ত্রে।

বহিরাগত-তত্ত্বের মোকাবিলায় প্রচার কৌশলও বদলায় বিজেপি। দলের ব্যাখ্যা, পাঁচ বছর আগে মোদী-শাহ ছাড়াও বাঙালি নন, এমন অনেক বিজেপি নেতাকে প্রচারের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়াটাই বড় ভুল হয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিজয়বর্গীয় বা অন্য ভিন্‌ রাজ্যের নেতারা বাংলার স্থানীয় সংস্কৃতি, আবেগ না বুঝেই অনেক ক্ষেত্রে এমন মন্তব্য করেছিলেন, যার সূত্র ধরে সার্বিক ভাবে বিজেপিকে আক্রমণ শানানোর সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল তৃণমূল। তাই এ যাত্রায় ঠিক হয়, মোদী-শাহ ছাড়া ভোটের প্রচারে অবাঙালিদের মধ্যে কেবল বক্তব্য রাখবেন অন্য রাজ্য থেকে আসা তারকা প্রচারকেরা। সামগ্রিক ভাবে প্রচারে তাই যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্তবিশ্ব শর্মাদের মতো তারকা প্রচারকদের বাইরে অবাঙালি বিজেপি নেতাদের মঞ্চে উঠতে দেওয়ার প্রশ্নে কার্যত অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারিকরে দল।

এর পাশাপাশি, এ বার গোড়াতেই স্থির করে নেওয়া হয়েছিল, বিজেপির প্রচারের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কোনও কটূক্তি করা যাবে না। পাঁচ বছর আগে ঠিক এটিই ঘটায় মহিলাদের সহমর্মিতা পেয়ে গিয়েছিলেন মমতা। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, ‘‘সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে দল। পাশাপাশি এটা মানতেই হবে, মমতা লড়াকু নেত্রী। তাই মমতাকে আক্রমণ করতে গিয়ে সৌজন্যের লক্ষ্মণরেখা যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তা নিয়ে গোড়া থেকেই বিজেপি সতর্ক ছিল।’’

যদিও প্রচারের শেষ লগ্নে শাহের বিরুদ্ধে সেই লক্ষ্মণরেখা পেরোনোর অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy