দখল হতে পারে পঞ্চায়েত-পুরসভাও, আশঙ্কা তৃণমূলেই

তৃণমূল ক্ষমতায় আসার বছর দু’তিন আগেই রাজ্যে পুরসভা ও পঞ্চায়েতে বদলের ইঙ্গিত আসতে শুরু করেছিল। বাম সরকারের আমলেই ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ও ২০১০ সালের পুরভোটে সেই লক্ষণ স্পষ্ট হয় গোটা রাজ্যেই।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৬:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

বিরোধী দল ভাঙিয়ে এ রাজ্যে পুরসভা ও পঞ্চায়েতে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সূচনা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার সরকার বদলের পরে ঠিক সেই পথেই স্থানীয় প্রশাসনে রং বদলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিদায়ী শাসকের অন্দরে। ইতিমধ্যেই গ্রাম ও শহরে দলবদলের সেই ইঙ্গিতও সামনে আসতে শুরু করেছে। দলের একাংশ মনে করছে, এ বারের সরকার বদলের পরে নিজেরাই দল বদল করে ক্ষমতা বাঁচানোর চেষ্টায় নেমে পড়তে পারেন তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনেকে।

তৃণমূল ক্ষমতায় আসার বছর দু’তিন আগেই রাজ্যে পুরসভা ও পঞ্চায়েতে বদলের ইঙ্গিত আসতে শুরু করেছিল। বাম সরকারের আমলেই ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ও ২০১০ সালের পুরভোটে সেই লক্ষণ স্পষ্ট হয় গোটা রাজ্যেই। পালাবদলের পরে স্থানীয় প্রশাসনের যে সব জায়গায় বিরোধীদের উপস্থিতি ছিল, দেড় দশকের শাসনে দল ভাঙিয়ে তার সব ক’টিই প্রায় দখলে নিয়ে নেয় তৃণমূল। এ বার সেই পথেই ক্ষমতার হাতবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পুরসভাগুলিতে। এই মুহূর্তে ১০৮টি পুরসভার যে ১০৩ টি তৃণমূলের দখলে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তার কতগুলি এই অবস্থায় থাকবে, তা নিয়ে সংশয়ে দলীয় নেতৃত্বই। শুধু তা-ই নয়, কলকাতা, শিলিগুড়ি, বিধানননগর ও আসানসোল পুর-নিগম নিয়েও এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছেন না শাসক দলের নেতারা।

দলের প্রতীকে কোনও প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসেননি, এমন পুরসভার সব সদস্যকে দলে নিয়ে রং বদলের উদাহরণও রয়েছে তৃণমূলের আমলে। সে কথা মনে করেই দলের এক নেতা বলেন, ‘‘রাজ্যের সরকার, পুরসভা বা পঞ্চায়েত একই দলের হাতে থাকলে উন্নয়ন এগোবে, এই রকম এক তত্ত্ব আমরাই সামনে এনেছিলাম। তা না-হলে সরকারি সহযোগিতার বাধা থাকে, এমন ধারণাও আমাদেরই তৈরি। ফলে, এ বারও সে ভাবে বোর্ড বদলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।’’ কলকাতা পুরসভার নির্বাচন আগামী ডিসেম্বর মাসে হওয়ার কথা। তার আগে বদল না-হলেও বিধানসভা ভোটের ফল দেখে রাজনৈতিক শিবিরের অনেকেই মনে করছেন, বিজেপির বিপুল জয়ের ধারা পুরভোটেও চলতে পারে। তাতে এ বার তৃণমূলের লড়াই কঠিনই হবে। আগে পুরভোটে যে গা-জোয়ারির অভিযোগ উঠেছিল, তার ফল লোকসভা ভোটেও মিলেছে বলে মনে করে তৃণমূল। সে দিক থেকে দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে নতুন করে কতটা কী করা যাবে, তা নিয়ে সন্দিহান দলীয় নেতৃত্ব।

একই পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে পঞ্চায়েতের তিন স্তরেও। জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়েও এই আশঙ্কা রয়েছে তৃণমূলে। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘এটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই দুই স্তরে জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি ও অত্যাচার এ বার সরকারের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। তাই এই অবস্থায় তাঁরা শিবির বদল করতে পারেন। দল সাধারণ কর্মীদের কথাই ভাবছে।’’ পঞ্চায়েতের তিন স্তরে বোর্ড গঠনের কত দিনের মধ্যে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না, তার মেয়াদ আইন সংশোধন করে বাড়িয়ে রেখেছে বিদায়ী সরকার। তবে শাসক পক্ষের সব সদস্য একসঙ্গে দল বদল করতে চাইলে সেই আইনি রক্ষাকবচও বিশেষ সহায়ক হবে না, বুঝতে পারছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy