E-Paper

আইন মেনেই বঙ্গে বদলি, দাবি কমিশনের

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য, আইন মেনেই বদলি হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, কোনও রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন বা ভোটার তালিকায় সংশোধন চলাকালীন সেই কাজে নিযুক্ত সমস্ত অফিসাররা কার্যত নির্বাচন কমিশনের অধীনে বা ‘ডেপুটেশন’-এ কাজ করেন।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

‘যা হচ্ছে, আইন মেনেই হচ্ছে’।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বটেই, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরীওয়াল, জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র সঞ্জয় রাউতও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন। কারণ, নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার পর থেকেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, জেলাশাসক, রাজ্য পুলিশের ডিজি, ডিআইজিদের সরিয়ে নিজেদের বাছাই করা অফিসারদের দায়িত্বে আনছে। কিছু অফিসারকে রাজ্যের বাইরে বদলি করা হয়েছে। মমতার অভিযোগ, কমিশনের আচরণে পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট।

এই আক্রমণের মুখে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য, আইন মেনেই বদলি হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, কোনও রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন বা ভোটার তালিকায় সংশোধন চলাকালীন সেই কাজে নিযুক্ত সমস্ত অফিসাররা কার্যত নির্বাচন কমিশনের অধীনে বা ‘ডেপুটেশন’-এ কাজ করেন। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩সিসি ধারাতেই বলা হয়েছে, ‘মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ইত্যাদি অফিসাররা নির্বাচন কমিশনের ডেপুটেশনে রয়েছেন বলে ধরা হবে। এই অফিসাররা ছাড়াও ভোটার তালিকা তৈরি, সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিযুক্ত অফিসারকে নির্বাচন কমিশনের ডেপুটেশনে রয়েছেন বলা ধরা হবে। ওই অফিসার ও কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও শৃঙ্খলারআওতায় থাকবেন।’

মমতার পাশে দাঁড়িয়ে কেজরীওয়াল অভিযোগ তুলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে কমিশন। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর বলেছেন, এ ধরনের ব্যাপক রদবদল কেবল বিরোধী শাসিত রাজ্যেই দেখা যায়। কমিশনের এই রদবদলের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলাওদায়ের হয়েছে।

দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তাদের বক্তব্য, এ বিষয়ে আগেও মামলা হয়েছে। বস্তুত ১৯৯৩ সালে নির্বাচন কমিশনই সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে মামলা করেছিল। কারণ, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩সিসি ধারায় নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা ১৯৮৯ সালে আইনে সংশোধন করে যোগ করা হয়েছিল। ওই আইনের ধারায় নির্বাচন কমিশনের ‘শৃঙ্খলা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও কমিশনের মতভেদ হয়। টি এন শেষন যখন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, সে সময় কমিশন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

২০০০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ঐকমত্য হয়। ঠিক হয়, দায়িত্ব পালন না করলে নির্বাচন কমিশন যে কোনও অফিসারকে সাসপেন্ড করতে পারবে, বদলি করতে পারবে। সেই ধারা মেনেই, নির্বাচনের কাজে যুক্ত আমলা বা পুলিশ অফিসারদের প্রয়োজন মতো কমিশন বদলি করে।

মমতার অভিযোগ, ‘‘পশ্চিমবঙ্গকে যে ভাবে আলাদা করে কমিশন নিশানা করেছে, তা নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক।’’ কেজরীওয়াল, ওমরও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব। নির্বাচন কমিশন সূত্রের পাল্টা যুক্তি, আলাদা ভাবে পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করার অভিযোগ ভুল। গত রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরে বিজেপি শাসিত অসম, ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ু, বাম শাসিত কেরলেও উচ্চপদস্থ অফিসারদের সরানো হয়েছে। কোথাও তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক হয়নি। প্রয়োজনে আরও অফিসারদের সরানো হবে। কমিশনের কর্তারা অবশ্য মানছেন, পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বাকি রাজ্যে বদলি করা অফিসারদের সংখ্যাঅনেক কম।

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, আমলা, পুলিশ-কর্তাদের বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁদের সরানোর সময় রাজ্যের কাছে বিকল্প তালিকা না চেয়ে কমিশনই সরাসরি নিয়োগ করছে। যদিও কমিশন সূত্রের যুক্তি, অন্য রাজ্যেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কমিশন সরাসরি নিয়োগ করেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission Transfer

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy