E-Paper

কেউ কি পাশে দাঁড়াবে, প্রশ্ন মৃতদের পরিবারের

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা ছিলেন চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেন। আন্দোলনের মাঝেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। গত ১৫ অগস্ট মারা যান সুবল।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কেউ কথা রাখেনি!

চাকরিহারা আন্দোলনে মৃত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের পরিবারের কাছে এটাই রূঢ় বাস্তব।

চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আন্দোলনে অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন সুবল সোরেন, প্রশান্ত দাস, উজ্জ্বল রায়। আন্দোলনের মাঝেই অসুস্থ হয়ে মারা যান তাঁরা। ওই শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের পরিবারের সদস্যেরা বলছেন, রাজনৈতিক নেতারা হাজারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সে সব প্রতিশ্রুতি যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে! এ-ও বলছেন, দুয়ারে ভোট চাইতে এলে নেতাদের বাড়ির ভিতরে নিয়ে কী ভাবে দিন চলছে, তা দেখে যেতে বলবেন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা ছিলেন চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেন। আন্দোলনের মাঝেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। গত ১৫ অগস্ট মারা যান সুবল। তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যা সোরেন বলেন, ‘‘স্বামী মারা যাওয়ার পরে দেহ নিয়ে গ্রামে ফেরার সময় কত নেতা ভিড় করেছিলেন। এখন কেউ নেই। এখনও ফ্যামিলি পেনশনই চালু হল না! প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও পাইনি। প্রবল আর্থিক কষ্টের মধ্যে তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে চলছি। আত্মীয়-পরিজন ও চাকরিহারা শিক্ষক সংগঠনের সাহায্য না পেলে কী করতাম, জানি না।’’ পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির চাকরিহারা শিক্ষক প্রশান্ত দাস ২০২৪ সালের শেষেও ধর্মতলার আন্দোলন মঞ্চে রাতের পর রাত জেগেছিলেন। ২০২৫-এর ২ জানুয়ারি আচমকাই অসুস্থ হন। তমলুক হাসপাতালে মারা যান প্রশান্ত। তাঁর পরিবার জানাচ্ছে, এখনও প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশন চালু হয়নি। শিশুকন্যাকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন প্রশান্তর স্ত্রী ঝুমা। বলছেন, ‘‘একটাই প্রশ্ন, আমাদের পাশে কি কেউ দাঁড়াবে?’’

২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মারা গিয়েছেন চাকরিহারা শিক্ষাকর্মী উজ্জ্বল রায়। ছোট-ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে সংসার টানতে প্রাইভেট টিউশনই ভরসা উজ্জ্বলের স্ত্রী শিউলি রায়ের। বলছিলেন, ‘‘ও (উজ্জ্বল) বলেছিল, টাকা জমিয়ে টালির বাড়ি বদলে মাথার উপরে পাকা ছাদ হবে। কিন্তু সে আর হল কই! যারা পরীক্ষা দিতে পারল না, যারা মারা গেল— তাদের পরিবার কেমন আছে, সেটা কোনও দলই ভেবে দেখছে না।’’

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক সুমন বিশ্বাস বলেন, ‘‘এরকম আরও কয়েক জন যোগ্য শিক্ষক আন্দোলন করতে করতেই মারা গিয়েছেন। যে নেতারা পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাঁদের দূরবীন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Teacher Recruitment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy