E-Paper

কংগ্রেসে প্রার্থী-বিক্ষোভ, শ্রীরামপুরের পথেই সভাপতি

প্রথম দফায় রাজ্যের ২৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। যা নিয়ে নানা জায়গায় দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৮:২১
বাদুড়িয়ার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম (দিলু) ফিরলেন (বাঁ দিকে) ফিরলেন কংগ্রেসে। দিল্লিতে।

বাদুড়িয়ার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম (দিলু) ফিরলেন (বাঁ দিকে) ফিরলেন কংগ্রেসে। দিল্লিতে।

কংগ্রেসের বিধায়ক থাকাকালীন যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এখন তৃণমূল আর টিকিট দেয়নি। বিধানসভা ভোটের মুখে কংগ্রেসে ফিরে এলেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম (দিলু)। সূত্রের খবর, বাদুড়িয়া কেন্দ্র থেকে এ বার ফের কংগ্রেসের প্রার্থী হচ্ছেন তিনিই। হবেন। কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে যিনি তৃণমূলে চলে গিয়েছিলেন, শাসক দলের টিকিট না-পেতেই তাঁকে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কংগ্রেসের অন্দরে। প্রসঙ্গত, রহিমের বাবা, প্রয়াত কাজী আব্দুল গফ্ফর বাদুড়িয়া থেকে ৬ বার কংগ্রেসের বিধায়ক হয়েছিলেন। পাশাপাশি, প্রার্থী পছন্দ না-হওয়ায় সোমবার কংগ্রেসের একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে নানা জেলায়। তার আঁচ এসে পড়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের দফতর বিধান ভবনেও।

প্রথম দফায় রাজ্যের ২৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। যা নিয়ে নানা জায়গায় দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। প্রথম তালিকায় অবশ্য নাম ছিল না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের। তবে কংগ্রেস সূত্রের খবর, তিনি শেষ পর্যন্ত শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হচ্ছেন। যেখানে তিনি ১০ বছর আগে লড়েছিলেন। দলের প্রথম সারির নেতাদের ভোটে লড়ার জন্য বারংবার অনুরোধ করেছেন এআইসিসি নেতৃত্ব। সে ক্ষেত্রে প্রদেশ সভাপতি প্রার্থী না-হলে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে দলীয় সূত্রের ব্যাখ্যা। শুভঙ্করও বলেছেন, দলের সিদ্ধান্তই তাঁর জন্য চূড়ান্ত। আর প্রার্থী নিয়ি বিক্ষোভ প্রসঙ্গে এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীরের মত, ‘‘আমরা আগেই বলেছি, ২৯৪ কেন্দ্রের জন্য আড়াই হাজার আবেদন ছিল। ফলে, অসন্তোষ থাকতেই পারে। তবে কোথাও যোগ্য কাউকে বঞ্চিত করে অন্য কাউকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিবেচনা এবং সংশোধনের সুযোগ আছে।’’

দিল্লিতে এ দিন কংগ্রেস দফতরে এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক মীর, ওয়ার রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত বি পি সিংহ এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্করের উপস্থিতিতে রহিম পুরনো দলে যোগ দিয়েছেন। রহিম বলেছেন, ‘‘আমি কংগ্রেসেরই লোক। বিজেপিকে রুখতেই আবার কংগ্রেসে ফিরে এলাম।’’ তাঁর দাবি, ২০২১ সালে বোঝানো হয়েছিল, রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার তৈরি করার জন্য তৃণমূল একমাত্র শক্তি। তখন সেটা বিশ্বাস করেছিলেন। শুভঙ্করের দাবি, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূল থেকে নেতাদের কংগ্রেসে অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, মানুষ এখন দ্বিমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করছেন না। মানুষ চান উন্নয়নের রাজনীতি, সেই পথ দেখাতে পারে কংগ্রেস।’’ তাঁদের প্রার্থী তালিকায় এ বার পঞ্চাশ বছরের নীচে এবং সংখ্যালঘু, তফসিলি মুখ বড় সংখ্যায় আছে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভঙ্কর।

প্রার্থী-অসন্তোষে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায়, বর্ধমান শহরের বিসি রোডে জেলা কংগ্রেস দফতরে, উলুবেড়িয়ায় হাওড়া গ্রামীণ জেলা কংগ্রেস কার্যালয় অবনী বসু ভবনে এ দিন ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেসের কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে। বর্ধমানে বিক্ষোভকারীরা দফতরে তালা ঝুলিয়ে দেন। উলুবেড়িয়ায় হামলার চোটে ভেস্তে যায় কর্মিসভা। মালদহের চাঁচল, মানিকচক, ইংরেজবাজার, মোথাবাড়ি, বৈষ্ণবনগর ও সুজাপুরে প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের জেরে মালদহ জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি-সহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন সারওয়ার জাহান। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মালদহের মাটি এক সময় গনি খান চৌধুরীর মতো নেতার আদর্শ, সততা ও জনসেবার জন্য গর্বিত ছিল। ব্যক্তি-স্বার্থ ও লোভের রাজনীতি মালদহের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করছে।’’ চাঁচলে প্রার্থী বদলের দাবিতে ধর্না হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে কংগ্রেস প্রার্থী শাহনাজ বেগমকে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী বলে অভিযোগ তুলে কয়েক জন কংগ্রেস সমর্থক ছাড়াও মহকুমা কংগ্রেস সভাপতি আব্দুর রহমান বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘ডোমকলে যাঁরা দাঁতে দাঁত চেপে সংগঠন তৈরি করছেন, তাঁদের ঝেড়ে ফেলে আমাদের ঘাড়ে এক জনকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী নিয়ে লড়াই করব আমরা।” জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, “প্রার্থী নিয়ে কিছু কর্মী সমর্থকদের মধ্যে মান-অভিমান আছে। তবে সেটা খুব সাময়িক। আশা করছি, কর্মীরা খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রার্থীর সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে পড়বেন।” প্রার্থী নিয়ে দলের কর্মীদের ক্ষোভ সামনে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার, নদিয়ার নাকাশিপাড়াতেও। কলকাতায় বালিগঞ্জের প্রার্থীকে মানতে নারাজ এক দল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিধান ভবনে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Congress

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy