বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার গড়িয়ার বোসপাড়ায় মালবিকা রায় ভট্টাচার্য (৪৮) নামে এক এইআরও–র অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি ডায়মন্ডহারবার বিডিও ১ অফিসে এইআরও-র কাজে নিযুক্ত ছিলেন। গত রবিবার রাত একটা নাগাদ তিনি বিষ জাতীয় কিছু খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল আটটা নাগাদ বাইপাসের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মালবিকার স্বামীর অভিযোগ, স্ত্রী এসআইআর-এর কাজের চাপে বিপর্যস্ত ছিলেন। ‘সিস্টেমের’ চাপে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কোনও সুইসাইড নোট এখনও পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে বাঁশদ্রোণী থানায়। তদন্তে জানা গিয়েছে, এসআইআরের জন্য মালবিকা অবসাদে ভুগছিলেন। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালবিকা ঘোষপাড়ার একটি বহুতলের দোতলায় থাকেন। স্বামী অমলেশ ভট্টাচার্য, ১৬ বছরের মেয়ে এবং শাশুড়িও থাকেন। রবিবার রাত ১২টা নাগাদ তিনি মেয়ের সঙ্গে শুতে যান। রাত ১টার কিছু আগে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। পাশের ঘরে ছিলেন অমলেশ। এ দিন তিনি বলেন, "রাত ১টা নাগাদ আমাকে ফোন করে বলে খুব বমি হচ্ছে, তাড়াতাড়ি ঘরে এসো। ঘরে ঢুকে দেখি মেঝেতে বমি ছড়ানো। সঙ্গে নীল রঙের তরল পদার্থ। ওকে জিজ্ঞেস করি, কী হয়েছে? আমাকে বলে, কীটনাশক খেয়েছে। কেন কীটনাশক খেল, তার উত্তরে ও বলে, এই অপমান সহ্য করতে পারলাম না, তাই বিষ খেয়েছি। এর পরেই ও নেতিয়ে পড়ে। স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বাইপাসের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।"
ক্ষোভে ফেটে পড়ে অমলেশ বলেন, "রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ অফিস থেকে বাড়িতে আসে। বলে, ‘আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। যে কাজ আমি করিনি সেই কাজে আমার নাম উঠছে।’ জিজ্ঞেস করি, কে তোমাকে ফাঁসাচ্ছে? কিন্তু ও কোনও নাম বলতে চায়নি। এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে এত মানসিক চাপে ছিল যে ঘুম ভেঙে মাঝেমধ্যেই নানা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলত। সবই এস আই আর সংক্রান্ত।" তিনি থানায় এই সব কথাই জানিয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি।
অমলেশের আরও অভিযোগ, "নির্বাচন কমিশনের কেন নিজস্ব টিম থাকবে না যারা এই নির্বাচনের কাজকর্ম করবে। আমার স্ত্রীর মতো সাধারণ মানুষকে এটা করতে গিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে হল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)