WBState_Assembly_Elections_Lead0_04-05-26

ভোটযুদ্ধের শেষ লগ্নেও ‘বহিরাগত’ তরজা তুঙ্গে

বিজেপি-র তরফে পাল্টা বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই যদি দেশের কোনও রাজ্যে ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তা হলে প্রত্যেকেই বহিরাগত।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ০৫:৪০

—প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে কোনও জাতীয় পর্যায়ের নেতা তৈরি না করে, হিন্দিভাষী কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে বাজিমাত করা আদৌ সম্ভব কি না, আগামিকাল, সোমবার বঙ্গে বিজেপির সেই অগ্নিপরীক্ষা। ফল প্রকাশের আগের রাতে এ ভাবেই শেষ মুহূর্তের শর নিক্ষেপ করলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্য দিকে, বিজেপি-র তরফে পাল্টা বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই যদি দেশের কোনও রাজ্যে ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তা হলে প্রত্যেকেই বহিরাগত।

ফলের আগের রাতেও উভয়পক্ষই দাবি করছে সরকার গড়ার। দলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘‘গত ১২ বছরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক সাংসদ পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু এক জনকেও পূর্ণমন্ত্রী পদ দেয়নি। জাতীয় স্তরে কোনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-র কাউকে দেখা যায়নি। ফলে ভোটের সময় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য রাজ্যের হিন্দিভাষী মুখ্যমন্ত্রী, ইডি, সিবিআই নির্বাচন কমিশন— সবাইকে মাঠে নামতে হয়েছে। তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, কংগ্রেসের প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মতো নেতা ছিলেন, যাঁরা জাতীয় স্তরের সর্বমান্য পরিচিতি পেয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছেন। বিজেপি অতীত ঘেঁটে একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম করে, তার পর সব ফাঁকা।’’

তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, যে হেতু বাংলার কোনও বিজেপি নেতাই দিল্লিরও নেতা নন, ফলে রাজ্যের মানুষের ভালমন্দ, ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এবং সাংস্কৃতিকবোধ সংক্রান্ত স্পষ্ট ধারণা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছয় না। গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছয়, কিন্তু সে নিছকই কে কার সঙ্গে দেখা করছেন বা যোগাযোগ করছেন। মানুষের ‘মাটি বা পাড়ার গন্ধ’ দিল্লির কাছে নেই।

তৃণমূলের তরফে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ভাষাগত সমস্যাএকটা বড় ব্যাপার এবং সেখানেই বিজেপি-র পতন হচ্ছে। কুণালের কথায়, ‘‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে যখন গোটা ভারতের বাম নেতৃত্বের মুখ করা হচ্ছে, সেই সময় তাঁকে রাজস্থানে অমরা রামের আসনে ভোটপ্রচারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি দোভাষী নিয়ে সেখানে বক্তৃতা দিয়ে ফিরে বলেছিলেন, ভাষাগত ভাবে সরাসরি সংযোগ করতে না পারলে দলকে ছড়ানো সম্ভব নয়।’’

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য বহিরাগত যুক্তি মানতে নারাজ। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, ‘‘এ দেশের কোনও নাগরিকই বাংলায় বহিরাগত নন। যদি প্রধানমন্ত্রীকেই বহিরাগত বলে ধরে নেওয়া হয়, তা হলে প্রত্যেকেই তাই। আমরা যদি ইতিহাস খুঁড়ি, তা হলে দেখব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বহিরাগত। কারণ ইতিহাস বলছে বাংলায় কোনও ব্রাহ্মণ ছিল না, তাঁদের পূর্বপুরুষরা এসেছেন কনৌজ থেকে।’’

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নিবাচন নিয়ে সুকান্তর বক্তব্য, ‘‘ভোটের দিন সেখানে যে ভাবে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে, স্বাভাবিক ভাবেই কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে, এ বার বিজেপি-ই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসছে।’’ তৃণমূল নেতার পাল্টা কটাক্ষ, বিজেপি-র অবস্থা হল, তাদের স্থানীয় বিক্রেতা নেই, সংস্থার চেয়ারম্যান এসে বসে রয়েছেন! বিজেপির সংগঠন যদি চাঙ্গা থাকত, তা হলে সিআরপিএফ-কে দরকার হত না। ৪০ শতাংশ বুথে তো বিজেপি এজেন্টই দিতে পারেনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC vote counting BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy