E-Paper

আইএসএফ-সমঝোতায় জমি ছাড়ল সিপিএমই

দফায় দফায় টানাপড়েনের পরে সোমবার বেশি রাতে সিপিএম এবং আইএসএফ নেতৃত্বের বৈঠকে আসন-রফা চূড়ান্ত হয়েছে।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৪
যাদবপুরে প্রচারের মাঝে সিপিএম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

যাদবপুরে প্রচারের মাঝে সিপিএম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। নিজস্ব চিত্র।

বাম শরিকদের পুরোপুরি বাগে আনা গেল না। তবে ‘কিল খেয়ে কিল হজম’ করার কৌশল নিল সিপিএম! ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) কার্যত সব দাবিই মেনে নিয়ে বিধানসভা ভোটের আসন সমঝোতা সম্পূর্ণ করল বামফ্রন্ট। স্পষ্ট করে বললে, নিজের দলের স্বার্থ ছেড়েই ‘সমঝোতা’ করল সিপিএম!

বামফ্রন্ট ও সহযোগী দলেরা কে কত আসনে লড়বে, তার হিসেব বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। সেই তালিকা অনুযায়ী, বামফ্রন্ট এ বার লড়ছে ২৫২টি আসনে। পশ্চিমবঙ্গ সোশ্যালিস্ট পার্টিকে একটি এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক ও সামাজিক সংগঠনকে ছাড়া হচ্ছে তিনটি আসন। বাকি ৩৮টির মধ্যে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের জন্য ‘স্বীকৃত’ আসন ৮। আইএসএফের জন্য থাকছে ৩০টি আসন। নওশাদ সিদ্দিকীরা ৩১আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলেন। বাম সূত্রের খবর, তার মধ্যে মুরারই আসনে আইএসএফ নয়, সিপিএমের প্রার্থীকেই বামফ্রন্ট সমর্থন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্রের খবর, দফায় দফায় টানাপড়েনের পরে সোমবার বেশি রাতে সিপিএম এবং আইএসএফ নেতৃত্বের বৈঠকে আসন-রফা চূড়ান্ত হয়েছে। সমঝোতার এই সূত্র অনুয়ায়ী, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আপাতত পিছু হটতে হচ্ছে সিপিএমকে। প্রথমত, ক্যানিং পূর্ব আসনে আইএসএফের প্রার্থী আরাবুল ইসলামকে নিয়ে আপত্তির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তার আবার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন আইএসএফের চেয়ারম্যান নওশাদ। শেষ পর্যন্ত ক্যানিং পূর্বে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার পথে যাচ্ছে না সিপিএম। দ্বিতীয়ত, পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনটি এ বার শরিক সিপিআইয়ের হাত থেকে নিয়েছিল সিপিএম। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে সিপিএমের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহিকে। সেই আসনে আইএসএফ আবার প্রার্থী করেছে নিহত কুরবান শেখের ভাই আফজল আলি শাহকে। সমঝোতা-সূত্র অনুযায়ী, নিরঞ্জনকে প্রত্যাহার করতে হবে! অথচ দলের জেলা সম্পাদককে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছিল আলিমু্দ্দিন স্ট্রিট! এমন সমঝোতায় দলের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা প্রশমন করতে এখন উদ্যোগী হতে হচ্ছে সিপিএম নেতৃত্বকে।

বামফ্রন্টের মধ্যে সিপিএম ১৯৫, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩, সিপিআই এবং আরএসপি ১৬টি করে, আরসিপিআই এবং মার্ক্সবার্দী ফরওয়ার্ড ব্লক একটি করে আসনে লড়ছে। নন্দীগ্রামে সিপিআই প্রার্থীর নাম বামফ্রন্টের তরফে ঘোষণা হলেও সেখানে আইএসএফের দাবি ‘মান্যতা’ পেতে চলেছে। একই ভাবে আইএসএফ প্রার্থী থাকলেও বাসন্তীতে আরএসপি এবং মধ্যমগ্রামে ফ ব প্রার্থীকে সমর্থনের আশ্বাস দুই শরিক দলকে দিয়েছিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান। কিন্তু পরে বামফ্রন্ট ওই দুই কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে চায়নি। ক্ষুব্ধ আরএসপি বাসন্তীতে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা (খানাকুলেও প্রার্থী দেবে তারা) করেছে। মধ্যমগ্রামে ফ ব প্রার্থী করছে নিতাই পালকে। কোচবিহার উত্তর, জলপাইগুড়ি সদর, হরিশ্চন্দ্রপুরের মতো আসনের দাবি ছেড়ে দেওয়ার পরে এই ভাবে আশ্বাস দিয়েও তা না-রাখার ‘অসম্মান’ তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ফ ব-র রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। সেই সঙ্গেই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আইএসএফ আলাদা দল হলেও বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতা করে তারা ভোটে লড়ায় তাদের সিদ্ধান্তের জন্য সব শরিক দলকেই ‘জবাবদিহি’ করতে হবে।

ঘরে-বাইরে চাপের মুখে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি কেন্দ্রে বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে সর্বশক্তি নিয়ে সহযোগী দলগুলির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নির্বাচনী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে রাজ্য বামফ্রন্ট আহ্বান রাখছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jadavpur CPIM

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy