বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০০টিরও বেশি আসনে ভোট লুট হয়েছে বলেও অভিযোগ তুললেন তিনি। বেরোনোর সময়ে ক্ষুব্ধ মমতা বললেন, “আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুরোটা একতরফা। ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে। সিআরপিএফ-এর সামনে।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই ভবানীপুরের গণনাপর্ব ছিল টানটান উত্তেজনায় পূর্ণ। প্রথম দিকে কখনও মমতা, কখন শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। তার পরে একটি দীর্ঘ সময় এগিয়ে থাকেন মমতা। যদিও ব্যবধান কমাতে কমাতে আবার তৃণমূলনেত্রীর প্রাপ্ত ভোট ছাপিয়ে যান শুভেন্দু। ঠিক এমনই একটি সময়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু পরে সাখাওয়াত ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। তখনও বেশ কয়েক রাউন্ড গণনা বাকি ছিল।
সাখাওয়াত থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, “আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুরোটা একতরফা। ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে। সিআরপিএফ-এর সামনে। আমি প্রার্থী, আমাকে ঢুকতে দেয়নি। এটা হচ্ছে দানবিক পার্টি। ১০০টারও বেশি সিট লুট করেছে। এই নির্বাচন কমিশন হল বিজেপি কমিশন।” এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি তৃণমূলনেত্রীর।
আরও পড়ুন:
তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, “এটা কী ধরনের জয়! এটা ইমমরাল ভিক্ট্রি। মরাল ভিক্ট্রি নয়। পুরোটাই বেআইনি। জোর করে জিতেছে। লুট, লুট, লুট। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই।” সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টের কিছু পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছোন মমতা। সেখানে আগে থেকেই বিজেপি কর্মীদের জটলা ছিল। মমতা পৌঁছোনোর আগেই একপ্রস্ত উত্তেজনা ছড়িয়েছিল সেখানে। মমতার গাড়ি সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোতেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। সন্ধ্যায় তিনি গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময়েও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
মমতা সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোনোর কিছু আগেই গণনাকেন্দ্রের অদূরে একটি পেট্রল পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও সেখানে ছিলেন। পরে জানা যায়, পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে উঠে যেতে বলে। যদিও ওই সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে এগিয়ে আসা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় পুলিশের। পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তৃণমূলের জমায়েতস্থলে পৌঁছে যান। তৃণমূল কর্মীদের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২২:১৮
পানিহাটিতে জিতলেন আরজি করে নির্যাতিতার মা! ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তদন্তের খাতা নতুন করে খুলবে কি? -
২১:৪৭
ভাঙড়ের গড় ধরে রাখলেন নওশাদ, ‘মাছচোর’ গান খ্যাত শওকতকে পাঠিয়েও জোড়াফুল ফোটাতে পারল না তৃণমূল -
২১:৩৩
‘নকআউট’ বহু, ধরাশায়ী মন্ত্রী-সান্ত্রীর দল! গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেলেন কোন কোন হেভিওয়েট ঘাসফুল-নেতা? জিতলেন কারা? -
২০:০০
সরকারি দফতর থেকে সরবে না একটিও ফাইল! চলবে না নথি নকলও, গণনার দিনেই নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যসচিব -
১৯:০৮
জেল খেটে আসা বালুকে তাঁর কেন্দ্রেই প্রার্থী করেছিলেন মমতা! তিন বারের বিধায়ককে এ বার প্রত্যাখ্যান হাবড়ার