বঙ্গমুখী পরিযায়ী-ট্রেন বিজেপির, নালিশ কমিশনে

রবিবার বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশার হাজার হাজার শ্রমিক একসঙ্গে সুরাতের উধনা স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার ট্রেন ধরতে গিয়েছিলেন বলে হুলস্থূল কাণ্ড হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:০৯

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে এলপিজি আমদানিতে ধাক্কা লাগায় মোদী সরকার শিল্পমহলের জন্য গ্যাস সরবরাহ কাটছাঁট করেছে। তার জেরে সুরাত-সহ গুজরাতের বহু কারখানায় কাজ বন্ধ। পরিযায়ী শ্রমিকরাবাড়ি ফিরছেন।

রবিবার বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশার হাজার হাজার শ্রমিক একসঙ্গে সুরাতের উধনা স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার ট্রেন ধরতে গিয়েছিলেন বলে হুলস্থূল কাণ্ড হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই উধনা স্টেশন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা ট্রেন ধরে রাজ্যে রওনা হয়েছেন। সেখানে দেখা গিয়েছে, বিজেপি নেতারা নিখুঁত ভাবে সব রকম আয়োজন করেছেন। বিশেষ ট্রেনে করে মোট ১৩০০ জন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিককে রাজ্যে ভোট দিতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে বিজেপি। সুরাত থেকে মোট ৫ হাজার বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের জন্য বিজেপি এই বন্দোবস্ত করেছে।

এর বিরুদ্ধে আজ কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ভাঙছে। ভোট কেনার চেষ্টা করছে। কংগ্রেস নেতা শ্রীনিবাস বি ভি বলেন, ‘‘দু’দিন আগে সুরাতের রেলস্টেশন থেকে যখন বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকরা ট্রেন ধরতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁদের লাঠি মেরে মেরে ট্রেনে ভরা হয়েছিল। আর বাংলার শ্রমিকদের জন্য বিজেপি বিশেষ করে, সকলের জন্য নির্দিষ্ট আসনের ব্যবস্থা করে বাড়ি পাঠাচ্ছেন। এর কারণ কী!”

বিজেপি ব্যবস্থা করুক বা না করুক, সুরাত থেকে দিল্লি, মুম্বই থেকে জয়পুর—দেশের সব জায়গা থেকেই পরিযায়ী শ্রমিকরা এ বার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন। দিল্লি হোক বা মুম্বই, কোনও জায়গা থেকেই পশ্চিমবঙ্গ-মুখী ট্রেনে তিলধারণের জায়গা নেই। কারণ সকলের মনে এসআইআর-এর ভয়ে তৈরি হয়েছে যে এ বার ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে। অনেকের মতে, গ্রামের বাইরে থাকা সত্ত্বেও যাতে ভোটার তালিকায় নাম থাকে, তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তাই ভোটটা দিয়ে আসাই ভাল।

দিল্লির করোল বাগে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, বাঁকুড়ার প্রায় ৩০-৪০ হাজার স্বর্ণশিল্পী গয়না তৈরির কাজ করেন। তাঁদের অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার। করোল বাগের স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক ভৌমিক বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ স্বর্ণশিল্পী ভোট দিতে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন। ফলে কাজের গতি কমেছে। কিছু করার নেই। সকলের কাছেই ভোটটা গুরুত্বপূর্ণ।’’ পূর্ব দিল্লির রামকৃষ্ণ বিহারের পুরনো বাঙালি মিষ্টির দোকানে সপ্তাহ দু’য়ের বন্ধ থাকবে। কারণ মিষ্টি, শিঙাড়া তৈরির কারিগররা ভোট দিতে চলে গিয়েছেন। রাজ্যে ভোট মিটলে ফের দোকান খুলবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Indian Railways BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy