E-Paper

তারেকের বিদেশনীতিতে দিল্লি-বেজিং ভারসাম্যই

তারেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেই নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই নয়া সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার দু’মাসের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রথম চিন সফর করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪০
তারেক রহমান।

তারেক রহমান। —ফাইল চিত্র।

চিনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বর্তমানে সে দেশ সফর করছে বাংলাদেশের শাসকদল বিএনপি-র ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল। ২৪ এপ্রিল দেশে ফেরার কথা ওই দলটির। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পরেই সামগ্রিক বিদেশনীতিতে বদল এসেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকেরা। মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের বিদেশনীতি পাকিস্তান এবং আমেরিকা কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছিল। কূটনীতিকদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের ‘সর্বমুখী বিদেশনীতি’র প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তারেক জমানায়।

তারেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেই নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই নয়া সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার দু’মাসের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রথম চিন সফর করছে। শেখ হাসিনা চিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। পদ্মা সেতু নির্মাণেও চিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিস্তা চুক্তি নিয়ে বেজিংয়ের আগ্রহের কথা আর গোপন নেই। লালমনিরহাটে বিমানবন্দর পরিকাঠামো উন্নয়নে তারা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। চিনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের নীলফামারীতে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, তারেকের আমলে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করতে চায় চিন। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। সেই পরিস্থিতি পাল্টাতে চায় ঢাকা। শীঘ্রই ভারত সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিন কয়েক আগে ভারত সফর করে গিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দু’দেশের সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবত করাই ছিল ওই সফলের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের এক বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘‘বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত। তাই নয়াদিল্লির সঙ্গে ঝগড়া করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। বিপদে-আপদে ভারতের সাহায্য ছাড়া চলবে না। তাই দেশের স্বার্থেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সুসম্পর্ক জরুরি। মুখে হাসিনার সমালোচনা করলেও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে তাঁর পথেই অনুসরণ করা শ্রেয়। এই বাস্তবটা বোঝেন বিএনপি নেতৃত্ব।’’

ইউনূসের আমলে পাকিস্তানের আধিকারিক ও সামরিক অফিসারেরা যে ইসলামাবাদ-ঢাকা ডেলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছিলেন, নয়া সরকারের আমলে তাতে লাগাম পরানো হয়েছে। কিন্তু সুসম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে ইসলামাবাদের সঙ্গে। বিএনপি সরকার তুরস্ক-সহ পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতেও পদক্ষেপ করছে। বাংলাদেশের এক পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, ‘‘বর্তমান বিশ্বে পারস্পরিক সহায়তা ছাড়া এগোনো সম্ভব নয়। এই সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব তা ভালই বোঝেন। তাই সকলের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে ভারসাম্যের বিদেশনীতি নিয়ে চলাই আসল কাজ।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Tarique Rahman Bangladesh Foreign Policy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy