E-Paper

যুদ্ধাস্ত্র বেচায় নিষেধাজ্ঞা তুলল তাকাইচি সরকার

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে সাতশো কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল জাপান। আর তার ঠিক পরপরই দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিল টোকিয়ো।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৩
সানায়ে তাকাইচি।

সানায়ে তাকাইচি। —ফাইল চিত্র।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রায় আট দশকের নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিল জাপানের সানায়ে তাকাইচি সরকার। আজ জাপানের মন্ত্রিসভা মারণাস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আজ এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোনও দেশের পক্ষেই আর একা একা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা সম্ভব নয়’। একই সঙ্গে তাকাইচি সমাজমাধ্যমে আরও জানিয়েছেন যে, যু্দ্ধাস্ত্র সংক্রান্ত নীতির ক্ষেত্রে আগের অবস্থান থেকে তাঁরা সরে এলেও শান্তি বজায় রাখার জন্য তাঁর দেশ বিগত ৮০ বছর ধরে যে নীতি অনুসরণ করে এসেছে, তার প্রতি তাঁর সরকার আগের মতোই দায়বদ্ধ থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ মোট ১৭টি দেশকে যুদ্ধাস্ত্র বেচতে পারবে জাপান সরকার। বর্তমানে সামরিক সংঘর্ষে জড়িত কোনও দেশকে তারা এই সরঞ্জাম বেচতে পারবে না বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু জাপান সরকারের শীর্ষ কিছু আধিকারিক স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলিকে জানিয়েছে, ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধরত কোনও দেশকে চাইলে জাপান সমরাস্ত্র বিক্রি করতে পারে, তবে তা শর্ত সাপেক্ষে। তাকাইচি আজ আরও জানিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে। নতুন নীতির ফলে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে নতুন দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেও সে দেশকে অস্ত্র বিক্রি করতেপারবে জাপান।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে সাতশো কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল জাপান। আর তার ঠিক পরপরই দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিল টোকিয়ো। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, অ্যান্টনি অ্যালবানেজ় সরকারকে মোট ১১টি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করবে তাকাইচি সরকার। নতুন নীতির আওতায় ঠিক কী কী ধরনের সমরাস্ত্র জাপান বিক্রি করবে, তা নিয়ে সরকারি আধিকারিকেরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলির দাবি, রণতরী, যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রও রফতানি করতে চলেছে তারা।

জাপানের মুখ্য ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বৃৃদ্ধির জন্যই তাঁদের সরকার এত বছরের পুরনো নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেই সঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে তাঁদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নাম না করে আদতে চিনের দিকেই আঙুল তুলেছেন ক্যাবিনেট সচিব। বেজিংও আজ জাপান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আজই বলা হয়েছে, ‘চিন গোটা পরিস্থিতির উপরে কড়া নজর রাখছে। আর এই সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করছে’। তাকাইচি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন সামরিকীকরণ’ আখ্যা দিয়েছে বেজিং।

এ দিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করেছেন জাপানের সাধারণ নাগরিকদের একাংশও। তাকাইচির মন্ত্রিসভা যে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, তার আঁচ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। গত রবিবার তাই রাজধানী টোকিয়োতে বিশাল এক প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন ৩৬ হাজারের কাছাকাছি মানুষ। জাপানের পার্লামেন্টের সামনে হওয়া সেই জমায়েত থেকে উঠেছে যুদ্ধ-বিরোধী স্লোগান। সংবিধান বাঁচানোর দাবিও জানিয়েছেন প্রতিবাদীরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Japan

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy