E-Paper

জীবন ছারখার হয়ে গিয়েছে: আদিলের স্ত্রী

কিন্তু ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫-এর ২২ এপ্রিলের দিনটা হঠাৎই পাল্টে দিয়েছে সব কিছু। সে দিন পাইন বনের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নিরীহ পঁচিশ জন পর্যটককে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪১

—প্রতীকী চিত্র।

ঘন পাইন বনে ঘেরা সবুজ তৃণভূমি। কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরন উপত্যকা। এখানে সবুজ ঘাসের উপর অলস সময় কাটাতেন পর্যটকেরা। অনেকে আবার ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়াতেন উপত্যকায়। প্রশান্তির এই জগতে পৌঁছতে শুধু ভারত কেন, গোটা বিশ্বের পর্যটকেরা পাড়ি দিতেন।

কিন্তু ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫-এর ২২ এপ্রিলের দিনটা হঠাৎই পাল্টে দিয়েছে সব কিছু। সে দিন পাইন বনের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নিরীহ পঁচিশ জন পর্যটককে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। পর্যটকদের বাঁচাতে জঙ্গিদের হাত থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ঘোড়াচালক আদিল হুসেন শাহ। বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গিদের গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন তিনি। আদিলই ছিলেন এক মাত্র স্থানীয় ব্যক্তি, যিনি পহেলগামের হামলায় প্রাণ দিয়েছিলেন।

তবে এই বারো মাসে আদিলের পরিবারের জন্য বদলে গিয়েছে সব কিছু। আদিল ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তিনি নিহত হওয়ার পর গত এক বছরে পরিবারের পুনর্বাসনে এগিয়ে এসেছে জম্মু-কাশ্মীরের সরকার। পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ছাড়াও সরকারি চাকরি পেয়েছেন আদিলের স্ত্রী। আদিলের ভাইয়ের চাকরি হয়েছে ওয়াকফ বোর্ডে। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে পরিবারকে একটি বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছিলেন। তা-ও পূরণ করা হয়েছে। বাড়ির দেওয়ালে এখন পরিবারের বড় ছেলে আদিলের ছবি ঝুলছে। সে দিকে তাকিয়ে ছেলের সাহসিকতার কথা ভেবে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন গর্বিত বাবা সৈয়দ হায়দার শাহ।

আদিলের স্ত্রী গুলনাজ় আখতার আর শ্বশুরবাড়িতে থাকেন না। স্বামীর মৃত্যুর পরেই বাবা-মায়ের কাছে এসে থাকছেন তিনি। সেই দিনটিতে সদ্যোজাত কন্যা সন্তানের মৃত্যুর শোকে মুহ্যমান মায়ের কাছে এসে পৌঁছেছিল স্বামীর মৃত্যুর খবর। ‘‘সকালে নমাজের পর খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল আদিল। বিকেলে আমাদের দরজায় পৌঁছল তাঁর নিহত হওয়ার খবর।’’— বলছিলেন গুলনাজ়।

সরকারি চাকরি করে এখন রোজগার করেন ঠিকই। কিন্তু গুলনাজ়ের কথায়, ‘‘একটা চাকরি আদিলকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না।’’ পরক্ষণেই বলেন, ‘‘আদিল যে ভাবে পর্যটকদের বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছে, সে কথা ভেবে সত্যি আমি গর্বিত।’’ প্রশ্ন ছিল, শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে এলেন কেন? গুলনাজ় জবাব দেন, ‘‘আদিলই যেখানে নেই, সেখানে আমি থেকেকী করব?’’

দাদার মৃত্যুতে পাল্টে গিয়েছে ভাই নৌসাদ হুসেন শাহের জীবনও। আসলে আদিলের মৃত্যুর শূন্যতা গ্রাস করেছে গোটা পরিবারটিকে। কিন্তু যে ভাবে প্রাণ দিয়েছেন আদিল, তাতে গর্বিত পরিবারের প্রতিটি সদস্য। নৌসাদ বলেন, ‘‘আদিল খুবই সহজ সরল মানুষ হলেও অন্যায় সহ্য করতে পারত না। যখন সে দেখল নিরীহ মানুষগুলির উপর হামলা হচ্ছে, তখন আর সহ্য করতে পারল না। আর তাতেই জঙ্গিরা মেরে ফেলল ওকে।’’

এ ভাবেই বাড়ির বড় ছেলের জন্য হাহাকার আর গর্বের স্মৃতিতে এক বছর ধরে ডুবে রয়েছে একটা পরিবার।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pahalgam Pahalgam Incident

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy