ভোটের আগে গুঞ্জন বাড়ছিল, অসমে এনডিএ যদি জেতেও, মুখ্যমন্ত্রী পদে হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিকল্প ভাবা শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যে ভাবে হিমন্তকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ব্যবহার করা শুরু করেছে বিজেপি, যে ভাবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব বিতর্কের জবাব দেওয়ার অনুমতি তাঁকে দেওয়া হয়েছে, তা দেখে অনেকের মত, অসমে এনডিএ-র জয় নিয়ে দলকে হয়তো আশ্বস্ত করতে পেরেছেন হিমন্ত। দলও হয়তো ভাবছে, হিমন্তের বিকল্প এখনও নেই। তাঁকে সরালে গোটা উত্তর-পূর্বে দলের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। উপরন্তু ক্ষমতাচ্যুত হলে তাঁর বিদ্রোহী হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বস্তুত, হিমন্ত এখনই বলছেন, অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে ‘সুখে আছেন’, আর রাজ্যের স্বার্থে তিনি নিজে আছেন কাঁটার আসনে।
হিমন্ত এখন দাপিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ থেকে মেদিনীপুরে। দলীয় সূত্রে খবর, বঙ্গের যে সব এলাকায় গত দু’দশকে ব্যাপক ভাবে মুসলিমদের জনসংখ্যা বেড়েছে, সেখানেই ব্যবহার করা হচ্ছে হিমন্তের অনুপ্রবেশ ও বাংলাদেশি মুসলিম-বিরোধী চরমপন্থার রাজনীতিকে। সব সভায় তিনি মাংস খাওয়ার প্রসঙ্গ টানছেন। বলছেন, “তৃণমূলের গুন্ডাদের পালানোর একমাত্র রাস্তা বাংলাদেশ।” তাঁর যুক্তি, বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ফিরে আসছেন। তাই অনুপ্রবেশকারীমুক্ত দেশ গড়তে বিজেপির বঙ্গবিজয় গুরুত্বপূর্ণ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)