Advertisement
E-Paper

‘পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াচ্ছে আমেরিকা, তবে হরমুজ়ে অবরোধ উঠছে না’, বললেন ট্রাম্প

ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, নৌ-অবরোধ যেমন ছিল, থাকবে এবং যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে, যত দিন পর্যন্ত শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ না হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৫
(বাঁদিকে) আসিম মুনির এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানদিকে)।

(বাঁদিকে) আসিম মুনির এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানদিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌসেনার অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে বলে মঙ্গলবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময়) জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের ঘোষণা— ‘‘পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াচ্ছে আমেরিকা।’’

মঙ্গলবার রাত থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল আমেরিকার এবং ইরানের। মঙ্গলবার সকালে আমেরিকার একটি সংবাদসংস্থাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে তাঁর প্রতিনিধিদল। কিন্তু দুপুরে আমেরিকারই অন্য একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং তাঁর দলবলের পাকিস্তান সফর পিছিয়ে গিয়েছে। এর পরেই রাতে সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান সরকারের অন্দরে গুরুতর মতবিরোধ চলছে। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ আমাদের অনুরোধ করেছেন ইরানের উপর আক্রমণ স্থগিত রাখতে। যত ক্ষণ না ইরানের নেতা এবং প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব দিতে পারেন, তত ক্ষণ পর্যন্ত আমরা আক্রমণ স্থগিত রাখছি।’’

তবে এর পরেই ট্রাম্প জানান, হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে নৌ-অবরোধ চলবে। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, নৌ-অবরোধ যেমন ছিল তেমনই থাকবে, এবং যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে, যত দিন পর্যন্ত শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ না হচ্ছে।’’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজ়া আমিরি মোঘাদাম সমাজমাধ্যমে ব্রিটিশ সাহিত্যিক জেন অস্টিনের লেখা ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’-এর প্রথম কয়েকটি লাইনের সুরে তিনি লিখেছেন, ‘একটি সমৃদ্ধ সভ্যতার কোনও দেশ কখনই হুমকির মুখে পড়ে আলোচনায় বসবে না, এটি একটি সর্বজন-স্বীকৃত সত্য’! সেই সঙ্গে তাঁর বার্তা, বৈদেশিক চাপের মুখে নতিস্বীকারের বিষয়টি ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খায় না।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। বেশ কয়েকটি বিষয়ে ইরান আমেরিকার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেই বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে বলে দাবি আমেরিকার। যদিও ইরান তখন পাল্টা দাবি করে, আমেরিকার সদিচ্ছার অভাবেই বৈঠক শেষ মুহূর্তে অমীমাংসিত থেকে গিয়েছে। তার মধ্যেই দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। পাক সেনা সর্বাধিনায়ক মুনির ইতিমধ্যেই এ নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে। তবে শেষপর্যন্ত আদৌ সেই বৈঠক হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১২ ঘণ্টা আগে
US-Israel vs Iran US-Iran Conflict Donald Trump ceasefire
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy