E-Paper

কাজ না থাকলেও এড়ানো যাবে না সংসারের দায়িত্ব: কোর্ট

পারিবারিক হিংসার একটি মামলায় দিল্লির একটি আদালত বলেছে, একজন স্বামী নিজে বেকার— এমন দাবি করে তাঁর স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের দায়বদ্ধতাকে এড়িয়ে যেতে পারেন না।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৯:৫১

— প্রতীকী চিত্র।

বেকারত্বের কথা বলে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না স্বামী— এই রায় দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। পাশাপাশি কোর্ট জানিয়েছে, স্ত্রী শিক্ষিতা বলেই তাঁকে ভরণপোষণের টাকা দেওয়া হবে না, স্বামীর তরফে এমন যুক্তি অর্থহীন। কারণ, রোজগারের সম্ভাবনা ও প্রকৃত রোজগারের মধ্যে ফারাক রয়েছে।

পারিবারিক হিংসার একটি মামলায় দিল্লির একটি আদালত বলেছে, একজন স্বামী নিজে বেকার— এমন দাবি করে তাঁর স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের দায়বদ্ধতাকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এক মহিলার তরফে করা ওই মামলাটিতে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক শীতল চৌধরি প্রধান স্বামীকে তাঁর সন্তানের জন্য মাসিক ৬ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিলেন স্ত্রী। সেই মামলায় গত ২ জুন বিচারক চৌধরি জানান, স্বামী বেকার কিংবা তাঁর অন্য দায়িত্ব রয়েছে, এই যুক্তি দেখিয়ে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। আদালত জানান, স্বামী যেহেতু শারীরিক ভাবে সুস্থ, তাই সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৬ হাজার টাকা দিতে হবে। সন্তান যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে, তত দিন তাঁকে এই দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।

আদালতে স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের পর থেকেই তাঁকে পণের জন্য হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকেরা তাঁকে মারধর করেছে এবং মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময় তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি সন্তানকে নিয়ে আলাদা ভাবে থাকতেন। ওই বছরের কয়েক মাস দম্পতি একটি ভাড়াবাড়িতে আলাদা ভাবে থাকলেও সেই পরিস্থিতি স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাস পরেই স্বামী-স্ত্রী আবার আলাদা ভাবে থাকতে শুরু করেন।

২০২৫ সালে নিম্ন আদালত পারিবারিক হিংসা নিয়ে স্ত্রী-র অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, স্ত্রী এ ব্যাপারে কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। উচ্চতর আদালত সেই যুক্তি মেনে নিলেও দেখতে পায় যে, ২০১৫ সালের পর থেকে স্বামী তাঁর সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনও অর্থই দেননি। অথচ শিশুটি মায়ের কাছে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুর রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত ভাবে টাকা দেওয়ার জন্য স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Delhi High Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy