Advertisement
E-Paper

ইরানের ড্রোন দেখেই পর পর গুলি! হরমুজ়ের কাছে ফের উত্তাপ, সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান

আমেরিকার দাবি, ইরান থেকে ছোড়া দু’টি ড্রোন হরমুজ়ের দিকে এগিয়ে আসছিল। তার ফলে ওই জলপথে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক যানচলাচল বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৮:০৪
হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল।

হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল। ছবি: রয়টার্স।

হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরানের ড্রোন ফের আটকাল আমেরিকার বাহিনী। পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রবিবার জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দু’টি ড্রোন তারা গুলি করে নামিয়েছে। হরমুজ়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে তারা।

সেন্টকমের দাবি, ইরান থেকে ছোড়া দু’টি ড্রোন হরমুজ়ের দিকে এগিয়ে আসছিল। তার ফলে ওই জলপথে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক যানচলাচন বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানকারী মার্কিন বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া দু’টি একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করেছে। সেগুলি হরমুজ় প্রণালীতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক যানচলাচলে বাধা দিচ্ছিল।’’ ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বদা প্রস্তুত, দাবি সেন্টকমের।

অন্য দিকে, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। হরমুজ়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান পৌঁছে গিয়েছেন পাক মন্ত্রী মহসিন নকভি। শনিবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন ইরানের অভ্যন্তরীণমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, চলতি সফরে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন নকভি। গত কয়েক সপ্তাহে এই নিয়ে তিনি পর পর তিন বার ইরানে গেলেন। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তাতে মৃত্যু হয় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এর পর হামলা চালাতে শুরু করে তেহরানও। সংঘাতের এই পরিস্থিতি কাটিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে সচেষ্ট হয়েছে পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশ। ইরান এবং আমেরিকাকে তারা আলোচনার টেবিলে বসাতে চায়। ইসলামাবাদে আয়োজিত একটি বৈঠক ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে। ইরান বা আমেরিকা কেউই একে অপরের দাবিদাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে মেনে নিতে পারছে না। ফলে জটিলতা দিন দিন বাড়ছে। পাকিস্তান যে সমঝোতার চেষ্টা একেবারে ছেড়ে দেয়নি, নকভির ইরান সফরই তার প্রমাণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, শীঘ্রই সমঝোতার চুক্তি সম্পন্ন হবে। কিন্তু ইরানের তরফে সেই দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ়েও উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
Strait of Hormuz US Iran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy