পাত্র আরএসএস ঘনিষ্ঠ নাগপুরের শিল্পপতির পুত্র। পাত্রী বিজেপি-বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর কন্যা। ঘটকালি করেছেন বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা— এক জন মুখ্যমন্ত্রী, অন্য জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রাজনীতিতে সবই সম্ভব হলেও এমন আশ্চর্য ঘটনা কদাচিৎ ঘটে। শরদ পওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে এখন বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী। তাঁর কন্যা রেবতী বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন। পাত্র সঙ্ঘ পরিবার-ঘনিষ্ঠ নাগপুরের শিল্পপতি অরুণ লাখানির পুত্র সারঙ্গ। ঘটকালি করেছেন মহারাষ্ট্র সরকারের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নাগপুরের নেতা নিতিন গডকড়ী। ২০ জুন বিয়ে। তার আগেই বিজেপি অরুণ লাখানিকে মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুপ্রিয়া তাঁকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। এতে কি শরদ পওয়ারের এনসিপি-র বিজেপির শিবিরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ল? সুপ্রিয়ার দাবি, পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে সবাই আমন্ত্রিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একত্রে নিমন্ত্রণ করে এসেছে দুই পরিবার।
স্মরণীয়: নরেন্দ্র মোদীকে বিয়ের নিমন্ত্রণ করতে হাজির সুপ্রিয়া-সহ দুই পরিবার।
আমার স্বপ্ন যে সত্যি...
নেতা হয়েছেন। মন্ত্রী হয়েছেন। টাকার অভাব নেই। তবে মনে খচখচ। কলেজে ভর্তি হয়েও রাজনীতি করতে গিয়ে পড়াশোনাটা শেষ করা হল না যে। ছেলেমেয়ে জিজ্ঞাসা করলে, কী উত্তর দেবেন! ডি কে শিবকুমার তাই রাজনীতিতে ঢুকে, বিধায়ক, মন্ত্রী হওয়ার পরে বিএ, এমএ পাশ করেছেন। স্কুলের পর বেঙ্গালুরুর শ্রী জগদ্গুরু রেণুকাচার্য কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। তখন থেকেই কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফাইনাল পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি। সেই শিবকুমার কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন। তিনি এখন দেশের সবচেয়ে ধনী মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। তাঁর প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে সম্প্রতি মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক পিএইচ ডি করে ফেলেছেন। শিবকুমারের আর আফসোস নেই।
ঝালমুড়ির জয়যাত্রা
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রচারে গিয়ে সেই যে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন, তার স্বাদে এখনও মেতে গোটা বিজেপি। দীনদয়াল মার্গে দলের সদর দফতরে এত দিন বিকালের খাবারে চা, পোহা দেওয়া হত। এখন নেতা থেকে সাংবাদিক, সকলের জন্যই ক্যান্টিন থেকে আসছে চা, ঝালমুড়ি। যদিও উত্তর ভারতীয় ঘরানায় বানানো সেই ঝালমুড়ির সঙ্গে বঙ্গীয় ঝালমুড়ির দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু ঝালমুড়ির নামেই হইহই করে খেয়ে নিচ্ছেন সকলে। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর ঝালমুড়ির বিক্রি অস্বাভাবিক রকম বেড়েছে। ক্যান্টিনকর্মীরা জোগান দিয়ে কূল পাচ্ছেন না।
সীতার পিতৃগৃহ থেকে!
সাধারণত বিদেশ থেকে কোনও অতিথি, ভারতের দলীয় স্তরের সফরে এলে একটু আড়ষ্টতা এবং আনুষ্ঠানিকতা থাকে। গোটা বিষয়টিই হয় প্রোটোকল মেনে, মাপা কথায়। কিন্তু ‘বিজেপি-কে জানুন’ কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত নেপালের শাসক দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান রবি লামিছানে এবং তাঁর প্রতিনিধি দলের ক্ষেত্রে কিন্তু ‘শুষ্কং কাষ্ঠং’ অভ্যর্থনা দেখা গেল না বিজেপি শিবিরে। বরং আমে দুধে মিশে যাওয়ার ছবিই যেন তৈরি হল বিজেপি দফতরে। বাইরের দরজায় তাঁকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, বিজেপি নেতা হর্ষ মলহোত্র, মনোজ তিওয়ারি, সঞ্জয় জায়সওয়াল, বাঁসুরী স্বরাজ, বীরেন্দ্র সচদেবরা। জানা গেল, যত জন অভ্যর্থনার জন্য থাকার কথা, ভিড় তার চেয়ে বেশি! এক বিজেপি নেতার কথায়, “রামভক্ত হিসাবে সীতা মাইয়ার দেশ থেকে আসা অতিথির অভ্যর্থনা তো বিশেষ হবেই।”
অতিথি: নিতিন নবীন ও রবি লামিছানে।
মন্দিরে মন্দিরে
মহিলা সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে তখন ভোট আসন্ন। সেই অধিবেশনের ফাঁকেই সংসদের ক্যান্টিনের সামনে হঠাৎ দেখা বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় ও ঝাড়খণ্ডের গোড্ডার সাংসদ নিশিকান্ত দুবের। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, বীরভূমের সাংসদকে দেখেই নিশিকান্ত বলেন, তারাপীঠ মন্দিরে যাওয়ার খুব ইচ্ছা। শতাব্দী বলেন, “আসুন না, সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমিও কিন্তু আপনাদের ওখানে বৈদ্যনাথ ধামে পুজো দেব বলে ভেবে রেখেছি।” নিশিকান্ত বলেন, “চলে আসুন। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব ব্যবস্থা করে দেব।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)