E-Paper

ডুবে মৃত্যু কলকাতা মেডিক্যালের ডাক্তারি পড়ুয়ার, ঘনাচ্ছে রহস্য

কোন্নগর কানাইপুর অঞ্চলের প্রণবনগর এলাকার বাসিন্দা সোহম ওই হাসপাতালেরই এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের এক পড়ুয়ার সঙ্গে ঘাটে গিয়েছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৯:০৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গঙ্গায় ডুবে মৃত্যু হল এক চিকিৎসক পড়ুয়ার। শনিবার ভোর পৌনে ৫টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কলকাতার বাগবাজার ঘাটের কাছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, সোহম বসাক (২৩) নামে ওই চিকিৎসক পড়ুয়া আর এক জুনিয়র চিকিৎসক পড়ুয়ার সঙ্গে গঙ্গায় স্নান করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু জলের তোড়ে তলিয়ে যান তিনি। ওই তরুণ তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারেননি বলে দাবি। উত্তর বন্দর থানার সুতানুটি পুলিশ আউটপোস্টে গিয়ে ওই তরুণ খবর দিলে উদ্ধারে নামে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (ডিএমজি)। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ গঙ্গা থেকে সোহমকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহের ময়না তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, সোহম কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএসের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র। কোন্নগর কানাইপুর অঞ্চলের প্রণবনগর এলাকার বাসিন্দা সোহম ওই হাসপাতালেরই এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের এক পড়ুয়ার সঙ্গে ঘাটে গিয়েছিলেন। পুলিশের কাছে ওই তরুণ দাবি করেছেন, স্নান করতে নেমে তলিয়ে যেতে থাকেন সোহম। অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি তিনি।

এর পরে সুতানুটি আউটপোস্টের থেকে খবর পেয়ে খোঁজ শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। খবর পেয়ে এ দিন কলকাতায় ছুটে আসে সোহমের পরিবার। সোহমের নিকটাত্মীয় রাজীব বসাক বলেন, ‘‘মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ুয়ারা প্রতি রাতে ভলিবল খেলেন। শুক্রবার রাতে ভলিবল খেলে গরম লাগায় সোহম ও তার বন্ধুরা বাগবাজার ঘাটে স্নান করতে গিয়েছিল। সে সময়ে জলের তোড়ে ভেসে যায় সোহম।’’ তবে এই দাবির পরে সোহমের সঙ্গে কত জন ছিল, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। ঘাটের কাছে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও পুলিশ কথা বলেছে। যদিও হাসপাতালের তরফে এই ঘটনা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সোহমের বাবা অজয় বসাক জীবন বিমার কর্মী। সোহম বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাড়িতে বাবা, মা ছাড়াও ঠাকুরমা রয়েছেন। গত রবিবার শেষ বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার রাত ১২টার সময়েও মায়ের সঙ্গে ফোনে শেষ কথা হয় তাঁর। পর দিন সকাল ৭টা নাগাদ ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছয়। তার পর থেকেই শয্যাশায়ী সোহমের মা শুভ্রা। ঘটনার খবর শোনার পর থেকে তিনি আর কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।

রিষড়া রামকৃষ্ণ আশ্রমের প্রাক্তনী সোহমের মৃত্যুর খবরে তাঁর স্কুলের সহপাঠীর মায়েরা এ দিন তাঁর বাড়িতে আসেন। তাঁরাই জানান, স্কুলের মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সোহম। ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম ৩০০ জনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। সেই সূত্রেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পান। সোহমের পরিজনেরা জানাচ্ছে, সূর্যোদয় দেখতে ভালবাসতেন সোহম। সেই জন্যই ঘাটের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সূর্যোদয় দেখে তাঁর ফেরা আর হল না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Calcutta Medical College Hospital

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy