কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের উপরে সব দায়দায়িত্ব ছেড়ে বসে থাকতে নারাজ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তাই সিংহ ভাগ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই নিতিন নবীনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেল। আগামী ২৪ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে নিতিন রাজ্যে আসতে পারেন বলে বিজেপির সূত্রের খবর। সময় পেলে জনসভা করবেন। তবে এই সফরে অগ্রাধিকার থাকছে সাংগঠনিক বৈঠকেই। রাজ্য বিজেপির প্রত্যেকটি সাংগঠনিক জ়োনের নেতৃত্বের সঙ্গে নিতিন বৈঠক করবেন। আর নিতিন ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রচারাভিযান শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কলকাতায় কোন সময়ে মোদী রোড শো করবেন, তা-ও প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়ে গিয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একগুচ্ছ জনসভা এবং রোড শো ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিজেপির পরিকল্পনায় ছিল। কিন্তু সে বারের নির্বাচন কোভিড আবহে হয়েছিল। ভোট প্রক্রিয়ার মাঝপথেই সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করে। ফলে তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণ হয়ে যাওয়ার পরে মোদী-শাহ আর জনসভা করেননি পশ্চিমবঙ্গে। এ বার তেমন পরিস্থিতি নেই। গত বারের মতো আট দফায় ভোটগ্রহণও নেই। তাই মোদী-শাহ-সহ বিজেপির অন্য কয়েক জন কেন্দ্রীয় নেতার এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের যে সব জনসভার পরিকল্পনা হবে, সেগুলি বাস্তবায়িতও হবে বলে বিজেপি নেতৃত্ব আশা রাখছেন। তবে জনসংযোগ শুরু আগে আরও একদফা সাংগঠনিক কাজ সেরে ফেলতে চাইছেন নিতিন। সেই লক্ষ্যেই ২৪ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে তিনি পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারেন।
আরও পড়ুন:
উত্তরবঙ্গ, রাঢ়বঙ্গ, নবদ্বীপ, কলকাতা এবং হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুর— দলের এই পাঁচটি সাংগঠনিক জ়োনের নেতৃত্বের সঙ্গেই নিতিন বৈঠকে বসতে চাইছেন। এই সব সাংগঠনিক কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণত সুনীল বনসল বা ভূপেন্দ্র যাদবদের মতো পর্যবেক্ষকরাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে বৈঠকে বসেন। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনেও কৈলাস বিজয়বর্গীয় বা শিবপ্রকাশরাই সে সব বৈঠক সামলাচ্ছিলেন। তৎকালীন সভাপতি জেপি নড্ডাকে সে সব কর্মসূচিতে তেমন দেখা যায়নি। বর্তমান সভাপতি নিতিন নবীন সে পথে হাঁটতে চাইছেন না। বনসল বা ভূপেন্দ্রদের কাছ থেকে রিপোর্ট তিনি নিচ্ছেন। তার পাশাপাশি নিজেই সরেজমিনে বুঝে নিতে চাইছেন পরিস্থিতি। তাই আগামী সপ্তাহে দিন দু’য়েকের সফরে সবক’টি সংগঠনিক জ়োনের সঙ্গেই তিনি কথা বলে নিতে চান বলে খবর। তবে নিতিনের এই সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
নিতিন পশ্চিমবঙ্গ সফর সেরে ফিরে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই মোদীর নির্বাচনী জনসংযোগ শুরু হবে। তার দিনক্ষণও বিজেপির তরফ থেকে এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কারণ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে চূড়ান্ত সফরসূচি এখনও আসেনি। রামনবমীর পরে বা ৩০ মার্চের পরে মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর শুরু হতে পারে বল এখনও পর্যন্ত খবর। গতবারের মতোই এ বারও মোদীর নির্বাচনী জনসংযোগে জনসভা এবং রোড শো দুইই থাকবে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের মাঝে প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় রোড শো করবেন। অর্থাৎ ২৪ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিলের মদ্যেই সে রোড শো হবে। কারণ প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল। আর তার পরে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিন হবে ২৭ এপ্রিল। সুতরাং ওই সময়ের মধ্যেই কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রাখার কথা বিজেপি ভেবেছে।
কলকাতা ছাড়া আর কোথায় কোথায় প্রধানমন্ত্রী রোড শো করতে পারেন, তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর বা আসানসোলের মতো শহরে প্রধানমন্ত্রীর রোড শো রাখা হতে পারে বলে খবর। তবে যেখানেই রোড শো হোক, সে শহরের রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি ইত্যাদি খতিয়ে দেখেই এসপিজি রোড শোয়ের অনুমতি দেবে। ভোট ঘোষণার আগেই মোদী পশ্চিমবঙ্গে ছ’টি সাধারণ জনসভা এবং একটি ব্রিগেড সমাবেশ করেছেন। আগামী দেড় মাসে তিনি রাজ্যে আরও গোটা দশেক জনসভা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিজেপির প্রতিটি সাংগঠনিক বিভাগ একটি করে মোদী-জনসভা পাবে। তবে প্রচারের গতিপ্রকৃতি এবং প্রয়োজনীয়তা দেখেই প্রধানমন্ত্রীর সভার স্থান ও সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে বলে বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে।