আসন্ন বিধানসভা ভোটে স্বচ্ছতা এবং নজরদারির জন্য বুথে বিশেষ প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে অনেকের আশঙ্কা, বুথে কোণায়-কোণায় নজরদারির জন্য ক্যামেরা বসানো হলে ভোটদানের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হবে। কে, কোন চিহ্নে ভোট দিচ্ছে, সেই তথ্য জেনে ভোট-পরবর্তী সময়ে ‘বুঝে’ নেওয়ার হুমকিও কোনও কোনও দলের কর্মীরা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। কমিশনের এক কর্তার কথায়, ‘‘ইভিএম-এর চারপাশে এক মানুষ উচ্চতা পর্যন্ত ঘেরা থাকে। ক্যামেরার নজর সেই ঘেরাটোপের ভিতরে পৌঁছবে না। ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে অসত্য রাজনৈতিক ভাষ্য ছড়ানো হচ্ছে। ক্যামেরা নিয়ে গুজব বা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হলে কড়াপদক্ষেপ হবে।’’
কমিশনের দাবি, বিহারের ভোটেও ক্যামেরার নিবিড় ব্যবহার হয়েছিল। এ রাজ্যেও মাইক্রো-অবজ়ার্ভারদের বদলে সেই ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। যদিও ক্যামেরার এমন নিবিড় ব্যবহার এ রাজ্যে নতুন বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তাদের ব্যাখ্যা, এই ব্যবহার বুথে রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকাতে অন্তরায় হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে নানা ভাষ্য তৈরি করা হচ্ছে।
যেমন, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের একাংশ ভোটারদের বলছেন যে ভোটের সরাসরি সম্প্রচার (ওয়েবকাস্ট) হবে। তাই কে, কাকে ভোট দিচ্ছে— সব বোঝা যাবে। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘‘এ কথা শোনালে ভোটার ভয় পাবেন ও কোনও মতেই বিরোধী পক্ষের ঝুলিতে ভোট যাবে না— বোধ হয় এই প্যাঁচ কষেই ভাষ্য তৈরি হয়েছে।’’
কমিশনের ব্যাখ্যা, ভোটের দিন মাইক্রো-অবজ়ার্ভারদের নানা ভাবে কব্জা করে ফেলত দলগুলি। ফলে বুথের ভিতরে কী হচ্ছে, সেই তথ্য কমিশনে পৌঁছত না। তাই মানুষের বদলে যন্ত্র-নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু গোপনীয়তার সঙ্গে আপসকরা হয়নি।
কমিশন জানিয়েছে, সংবেদনশীল বুথের ভিতরে দু’টি এবং বাইরে একটি ক্যামেরা থাকবে। সাধারণ বুথের ভিতর থাকবে একটি এবং বাইরে একটি ক্যামেরা। বুথে লোকজনের গতিবিধি ক্যামেরায় ধরা পড়বে এবং একাধিক ব্যক্তি বুথে ঢুকলে ক্যামেরার প্রযুক্তি তা কমিশনের কন্ট্রোলরুমে জানাবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)