রক্ত ঝরেছিল প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের দিন। ইট, পাথর, রড, লাঠি নিয়ে চড়াও হওয়া ভিড়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল গিরিশ পার্ক মোড়। নিশানায় ছিল রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত উত্তর কলকাতার একটি বাড়ি। আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন সেই বাড়ির বাসিন্দা, রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা এ বারের ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী শশী পাঁজা। তখন থেকেই স্পর্শকাতর এলাকার তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে শ্যামপুকুর কেন্দ্র। কিন্তু নির্বাচনের দিন, বুধবার দেখা গেল, কার্যত অটুট শান্তি সেখানে।
ভরদুপুরে খাঁ খাঁ করছে গিরিশ পার্ক মোড়। কোনও গলিপথেই জটলা নেই। নেই বাইক বাহিনীর পরিচিত ঘোরাঘুরির ছবিও। একটি ব্যতিক্রমী গোলমাল ছাড়া দিনভর কোনও ঝামেলার অভিযোগও নেই। আলাদা নয় মানিকতলার ভোটের চিত্রও। তার মধ্যেই নিজের মতো করে ভোট করানো গিয়েছে বলে দাবি করলেন সব পক্ষই।
মানিকতলা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডে যেমন বলে দিলেন, ‘‘ভোট মানে আমার কাছে উৎসব। তার উপর আজ থেকেই আমার নতুন জন্ম হচ্ছে। জন্মদিন আমি আগের রাতেই উদ্যাপন করি। কাল রাতেই বিরিয়ানি খেয়ে উদ্যাপন সেরে নিয়েছি।’’ মানিকতলার দ্য ভবতারণ সরকার বিদ্যালয়ে মানিকতলার বিদায়ী বিধায়ক, শ্রেয়ার মা সুপ্তি পাণ্ডেও এ দিন ভোট দেন মেয়ের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, ‘‘ওর বাবা সাধন পাণ্ডের হাতে তৈরি এখানকার সমস্ত কিছু। তাঁর কাজের উপরে ভিত্তি করেই রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছিলাম। মা হিসাবে চাই, মেয়ে আমার চেয়ে একটি হলেও বেশি ভোট পেয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করুক।’’ একই রকম আত্মবিশ্বাসের সুর শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশীর গলাতেও। ফোনে এক সময়ে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছিল, ‘‘অনেকটা কিন্তু ভোট কেটে যাচ্ছে। এত কাটতে দেওয়া যাবে না।’’ পরে তিনি অবশ্য বলেছেন, ‘‘সমস্ত হামলা, অপমানের জবাব মানুষ ভোটযন্ত্রে দিয়ে দিয়েছেন।’’
মানিকতলা, শ্যামপুকুরের ভোট কেন্দ্রগুলিতে সকাল থেকেই ভোটারদের ভিড়। মাঝে কয়েক পশলা বৃষ্টিতে কিছুটা তাল কাটে। এর মধ্যেই শ্যামপুকুরে অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিটে গোলমালের খবর আসে। সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের ক্যাম্পে চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনী কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয়। শ্যামপুকুরের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘জোর করে ভোট লুটের চেষ্টা হচ্ছিল। বাধা দেওয়া হয়েছে।’’ নিজের নিজের মতো করে দুই কেন্দ্রেই কিছু অভিযোগ করেছেন বাম এবং কংগ্রেস প্রার্থী। মানিকতলার দাসপাড়ায় বুথে ঘোরার মধ্যেই ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় বললেন, ‘‘কিছু জায়গায় অশান্তি করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেই ফাঁদে পা দেননি আমাদের কর্মীরা। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট চলছে। বহু বছর পরে বাংলায় ভোট লুট হয়নি।’’ লুট না হওয়া ভোট কার পক্ষে যাচ্ছে? সব পক্ষই দেখাচ্ছেন নিজেকেই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)