পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নানা প্রান্তে অশান্তির ঘটনা ঘটল। দু’দফার ভোট মোটের উপর নির্বিঘ্নে মিটলেও, সোমবার দুপুরের পর থেকেই রাজ্যের নানা জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয়েছে। কলকাতা থেকে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনার মতো নানা জায়গায় মারধর, তৃণমূল অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সবক্ষেত্রেই অভিযোগের তির বিজেপির দিকে।
টালিগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে ৬ হাজার ১৩ ভোটের ব্যবধানে হারেন অরূপ বিশ্বাস। রাতেই তাঁর বস্তি উন্নয়ন পর্ষদের অফিসের বাইরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল।
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরেও। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে তাণ্ডব চালান কয়েক জন। ঘটনার ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
অভিযোগ, তৃণমূল উপপ্রধানের বাড়ি ও বাইক ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই সোমবার সন্ধ্যায় বহরমপুর থানার চুঁয়াপুর কদমতলা বটতলা এলাকা দিয়ে ডিজে বাজিয়ে বিজেপির বিজয় মিছিল ভাকুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিপ্লব কুণ্ডুর বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় বিজেপির বিজয় মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা বিপ্লবের বাড়িতে ভাঙচুর চালান ও বাড়ির সামনে রাখা বেশ কয়েকটি বাইকে ভাঙচুর করেন এবং পেট্রোল ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ বিপ্লবের। ঘটনার খবর পেয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
শান্তিপুরের হরিপুর পঞ্চায়েতের নীলকুঠি পাড়া এলাকায়, বুকে পেসমেকার লাগানো এক তৃণমূলকর্মীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বিজেপিকর্মীর বিরুদ্ধে।
নদীয়ার নবদ্বীপ থানার রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দখল করার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন দু’টি দোকান ঘর ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে খবর, ফলাফলের দিন নবদ্বীপ কেন্দ্র থেকে বিজেপি জয় লাভের পরই রেলগেট সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। কাগজপত্র বাইরে বার করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। একই সঙ্গে দখল করা হয় দলীয় কার্যালয়। গোটা ঘটনায় অভিযোগের তির বিজেপির দিকে।
আরও পড়ুন:
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের বেড়ুগ্রামের দিঘিরপাড়ে বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বিধায়ক নবীন বাগের অনুগামীরা কল্যাণ ঘোষের বাড়িতে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
ডানকুনিতেও তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর করে দখল নেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। ডানকুনি পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার চিন্ময় নন্দীর পার্টি অফিস ভাঙচুর করে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরেই তৃণমূলের অফিসে আক্রমণ করা হয়। যদিও চণ্ডীতলার তৃণমূল প্রার্থী স্বাতী খন্দকার জয়ী হয়েছেন।
কোচবিহার শহরের পুর এলাকার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের জেলা সভাপতি নির্বাচনে দলীয় কার্যালয় তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ, তৃণমূলের সেই দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর চালিয়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের পক্ষ থেকে।
কোচবিহারের সাহেব কলোনি এবং পাটছরা এলাকায় বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মীরা বিজয় উল্লাস করায় বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি তিনজন বিজেপি কর্মী।
জলপাইগুড়ির জেলায় ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী বিধানসভার ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন কানকাটা মোরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর চালান। নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব ও তাঁর স্ত্রী কাউন্সিলার লিপকা পাণ্ডবের উপর মারধরের অভিযোগ। শহরের গণনা কেন্দ্রের সামনে গোলকুয়াচক এবং পঞ্চুরচকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
ছন্দকোণায় ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর বাড়িতে হামলার ঘটনার অভিযোগ ওঠে। রাত ১০টার সময় ঘাটাল মহকুমায় খড়ার পুরসভা খোলা নিয়ে বিজেপির সবাই জমায়েত করে। অভিযোগ, তথ্য লোপাটের চেষ্টা চলছে। পরে পুলিশ এসে তালা লাগিয়ে দেয়। সেই চাবি বিজেপি নেতৃত্ব নিয়ে যায়। মঙ্গলবার খুলে দেবে পুলিশের সামনে বলে জানিয়েছেন ওই বিজেপি কর্মী।