E-Paper

ছিনিমিনি খেলছে কমিশন! নাম বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ জনতা

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিধানসভার বাসুরিয়া পঞ্চায়েতের দামাহার গ্রামে ৩৫০ জন ‘বিবেচনাধীন’ ছিলেন। ২৩৭ জনের নাম বাদ গিয়েছে। ওই পঞ্চায়েতেরই হামজাপুরে ১৪৫, লালচন্দ্রপুরে ২২৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৮

—প্রতীকী চিত্র।

দাবি, নির্বাচন কমিশনের কাছে মান্যতা পাওয়া নথি শুনানিতে জমা দিয়েছেন। কিন্তু একলপ্তে নাম বাদ গিয়েছে বুথের সব বা অধিকাংশ ‘বিবেচনাধীনের’। ব্যাখ্যা না পেয়ে হচ্ছে অবরোধ-বিক্ষোভ। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে ক্রমে বাড়ছে অসন্তোষ। এখনও যাঁরা ‘বিবেচনাধীন’, বাড়ছে তাঁদের উদ্বেগ।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিধানসভার বাসুরিয়া পঞ্চায়েতের দামাহার গ্রামে ৩৫০ জন ‘বিবেচনাধীন’ ছিলেন। ২৩৭ জনের নাম বাদ গিয়েছে। ওই পঞ্চায়েতেরই হামজাপুরে ১৪৫, লালচন্দ্রপুরে ২২৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের দাবি, এঁদের অধিকাংশ মহিলা। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তা। ২০০২ সালে আত্মীয়ের নাম ভোটার তালিকায় ছিল একাধিক জনের। বাসুরিয়ার আতিয়া তারান্নুম আক্তারি বলেন, ‘‘ইচ্ছে করে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যেহেতু লক্ষ্মীর ভান্ডার পাই।’’

জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘বিজেপি এমন হিংসুটে দল যে মহিলাদের নাম কেটে দিয়েছে এই বাংলায়। মেয়েরা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে, পদবি বদলেছে, সব বাদ। ঠিকানা বদলেছে, সব বাদ।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘তোমাদের কাছে জবাব চাই। জবাব দিতে হবে।’’ যদিও বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টি বিচার বিভাগীয় নজরদারিতে হয়েছে। তৃণমূল মিথ্যে অভিযোগ ছড়াচ্ছে। বিচার বিভাগের উপর ভরসা রাখুন।’’

হুগলির বলাগড় বিধানসভার বাকুলিয়া ধোপাপাড়া পঞ্চায়েতের ৫০ নম্বর বুথের ৬৪ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য শাবানা বিবিও। বলছেন, ‘‘শুনানিতে সব রকম নথি দিয়েও কেন এত নাম বাদ গেল, জানি না।’’ বলাগড়েরই ৪৯ নম্বর বুথের ২৬ জন ‘বিবেচনাধীনের’ মধ্যে ২৫ জনের নাম বাদ। বীরভূমের নলহাটি ২ ব্লকের বাঁদখালা গ্রামের চারটি পার্ট প্রায় ৪৫৮ জনের নাম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার সংখ্যালঘু প্রধান চুপিপোতা গ্রামে ১১ নম্বর বুথে ‘বিবেচনাধীন’ ১৫২ জনের নামই অতিরিক্ত তালিকায় বাদ পড়েছে। গ্রামের প্রবীণ নুরমান শেখ বলেন, “যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের অনেকের বাবা-দাদাকে এই গ্রামে জন্মাতে দেখেছি। এটা মানা যাচ্ছে না।” লাগোয়া জ্যোতিনগর গ্রামে ১৭ নম্বর বুথে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকা ১১৪ জনের মধ্যে ১১১ জনের নাম বাদ গিয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ২ ব্লকের বড়গোবরা এলাকার ৩ নম্বর বুথে ২৫৫ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁরা বুধবার পথ অবরোধ করেন। ওই ব্লকেরই বেগমপুর-বিবিপুর পঞ্চায়েতের বড়গোবরা ৫ নম্বর বুথে ৩৪০ জনের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁরাও ভোটার কার্ড হাতে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অন্যতম সৈয়দ আলি সর্দারের ক্ষোভ, ‘‘আমাদের নিয়ে কি ছিনিমিনি খেলছে কমিশন?’’

ভোটার হিসাবে যাঁদের ভবিষ্যতের নিষ্পত্তি হয়নি তাঁরা রয়েছেন আশঙ্কায়। ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ ছিল বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ হওয়া বীরভূমের পাইকরের পরিযায়ী সুনালী খাতুনের মা জ্যোৎস্না বিবির নাম। ‘বিবেচনাধীন’ বাংলাদেশে এখনও আটকে থাকা পাইকরের সুইটি বিবির মা লাজিনা বিবি ও মামাতো ভাই আমির খান। সংশ্লিষ্ট বিএলও আজমিরা খাতুনও ‘বিবেচনাধীন’। তাঁর স্বামী বলছেন, ‘‘এখন নিষ্পত্তির দিকে তাকিয়ে আছি।’’ কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার ঘাটেশ্বর গ্রামের ১৩ নম্বর বুথের ৩৩ জন ‘বিবেচনাধীনের’ সকলের নাম বাদ। গ্রামের বিএলও দোয়াজ্জেন মণ্ডল বলেন, “কী দেখে যে বিচার হচ্ছে, মাথায় ঢুকছে না!”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy