রাজ্যে ইতিমধ্যেই চলে এসেছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ বারের ভোটে ওই বাহিনীর জওয়ানদের ‘বডি ক্যামেরা’ দেওয়ারও পরিকল্পনা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি কোম্পানিতে ন’টি সেকশন থাকছে। প্রতি সেকশনে থাকেন আট জন জওয়ান। সেই হিসেবে প্রতি সেকশনে ন্যূনতম দু’টি করে বডি ক্যামেরা দিলেও কয়েক হাজার বডি ক্যামেরা প্রয়োজন। কবে থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বডি ক্যামেরা দেওয়া হবে, সে ব্যাপারেও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে এত অল্প সময়ে কয়েক হাজার বডি ক্যামেরা জোগাড় করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে পুলিশ-প্রশাসনের মধ্যেই।
প্রসঙ্গত, অতীতে ভোটে গোলমাল থামাতে এবং নিরপেক্ষ ভোট করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী যথাযথ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীদের একাংশ। আবার বহু ক্ষেত্রে শাসক দল তৃণমূলও বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তুলেছিল। ২০২১ সালে কোচবিহারের শীতলখুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে পাঁচ জনের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক হয়। অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থকেরা বাহিনীর উপরে চড়াও হয়েছিল। পাল্টা অভিযোগ, বাহিনী বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছিল। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, এই সব অভিযোগ এবং বিতর্ক এড়াতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বডি ক্যামেরা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ বলছে, শুধু বিতর্ক এড়ানোই নয়, বরং নজরদারির ক্ষেত্রেও বডি ক্যামেরা উপযোগী হতে পারে। কারণ, বডি ক্যামেরায় যেমন লাইভ ছবি দেখা যায় তেমনই জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থানও জানা সম্ভব। এর ফলে ভোটের আগে কোনও গোলমালের ক্ষেত্রে বা ভোটের দিন কমিশন-কর্তারা কন্ট্রোল রুমে বসেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবস্থান, কার্যকলাপ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি জানতে পারবেন। সেই মতো পদক্ষেপও করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, এ রাজ্যের পুলিশকর্মীরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করেন। বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে পুলিশ-প্রশাসন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)