E-Paper

গণনার উদ্বেগের মধ্যেই কারও মন ক্রিকেটে, কারও আবার ফুরসত নেই

চেনা ছকের বাইরে দেখা গিয়েছে বরাহনগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষকে। ভোট-পর্ব মেটার পরদিন ক্রিকেট ব্যাট হাতে লেবুতলা পার্কের মাঠে সময় কাটিয়েছেন তিনি।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ০৮:২৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকে গত এক মাসে প্রার্থীদের দিন কেটেছে চূড়ান্ত ব্যস্ততায়। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা, নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রের অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন তাঁরা। ভোট-পর্ব মেটার পরে আগামী সোমবার গণনা। মাঝের অবসরে প্রার্থীদের কেউ বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ বা সময় কাটাচ্ছেন পাড়ার ক্লাবে ক্রিকেট খেলে। প্রচারের কাজ না থাকলেও কোনও কোনও প্রার্থী আবার ফুরসত পাচ্ছেন না। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক আর দলের কাজ করতে গিয়েই সময় কেটে যাচ্ছে তাঁদের। যে যেমন ভাবেই সময় কাটান, প্রত্যেকেই অবশ্য সোমবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব মিটেছে বুধবার। কিন্তু প্রার্থীদের ব্যস্ততা কি আদৌ কমেছে? কী ভাবে সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা? যাদবপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানালেন, তাঁর বিশ্রামের কোনও সুযোগ নেই। কর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক চলছে। পাশাপাশি, নিজের পেশাগত কাজেও ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সারা বছরই তো অবসর সময় কাটানোর তেমন সুযোগ থাকে না। আমি পেশায় আইনজীবী হওয়ায় বিচারপ্রার্থী অনেকেই দেখা করতে আসেন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার শেষে তাঁদের আনাগোনা বেড়েছে। দলের কাজও করতে হচ্ছে। সোমবারের গণনার জন্য কর্মী বৈঠকও চলছে। ফলে, চাইলেও অবসর যাপনের সময় নেই।’’

তবে, চেনা ছকের বাইরে দেখা গিয়েছে বরাহনগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষকে। ভোট-পর্ব মেটার পরদিন ক্রিকেট ব্যাট হাতে লেবুতলা পার্কের মাঠে সময় কাটিয়েছেন তিনি। প্রচারের কাজ না থাকায় ব্যস্ততা যে কম, স্বীকার করে নিলেন সে কথা। সজল বললেন, ‘‘রাজনীতির পাশাপাশি ক্লাবের নানা কর্মকাণ্ডে সারা বছর ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকায় কয়েক দিন ক্লাবে সে ভাবে সময় কাটানো হয়নি। এখন খানিক অবসর মিলতেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছি।’’

রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের গলায় আবার বাম প্রার্থী বিকাশরঞ্জনের সুর। চাপ কমলেও অবসর এখনও তেমন মিলছে না বলে জানালেন। পুরসভার বৈঠকের পাশাপাশি গণনা সংক্রান্ত ব্যস্ততায় দিন কাটছে বলে দাবি করলেন দেবাশিস। তাঁর কথায়, ‘‘গত এক মাসের মতো রাস্তায় আর নামতে হচ্ছে না, এটা ঠিক। ফলে, কিছুটা হলেও চাপ কম। তবে, অবসরের সময় এখনও নেই।’’ এর পরে তিনি যোগ করেন, ‘‘গণনা তো নির্বাচনের অংশ। ফলে, চাপ কমলেও এখনই ব্যস্ততা কমার উপায় নেই। এমন অবস্থা যে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোরও ফুরসত মিলছে না।’’

প্রচার না থাকলেও চাপ থেকে রেহাই নেই বলেই দাবি করছেন এন্টালির বিজেপি প্রার্থী, আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। কোন বুথে কত ভোট পড়ল, আর গণনার আগের পরিকল্পনা নিয়ে আগের মতোই ব্যস্ত রয়েছেন বলে দাবি করলেন তিনি। ফোনে কথা বলার ফাঁকে বললেন, ‘‘এখন আপনার সঙ্গে যখন কথা বলছি, সামনে ২০০ জন কর্মী বসে রয়েছেন। পরিবার, পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো থেকে শুরু করে বিশ্রাম, সবই ৪ মে-র পরে হবে।’’

তবে, শত ব্যস্ততার মাঝেই সোমবারের গণনা নিয়ে চাপা উদ্বেগ রয়েছে প্রার্থীদের মধ্যে। যদিও প্রকাশ্যে সকলেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলে দাবি করছেন। ভোট-ভাগ্যের ভবিষ্যৎ জানতে চাইলেই প্রার্থীরা এক বাক্যে উত্তর দিচ্ছেন, ‘‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Candidate

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy