কোনও শিখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি কোনও কাজেও পঞ্জাবের আপ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিংহ মানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। অকাল তখ্তের নির্দেশ মেনে তাঁরাও বয়কট করছেন মানকে। এমনটাই দাবি পঞ্জাবের বিজেপি নেতৃত্বের। সোমবার মানকে ‘গুরুবিরোধী’ বলে ঘোষণা করেছে শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী মানের একটি আপত্তিকর মন্তব্য এবং বিতর্কিত ভিডিয়ো ঘিরেই এই সিদ্ধান্ত।
এখন বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মান অকাল তখ্তের কাছে ক্ষমা না-চাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের শিখ মন্ত্রীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন না। পঞ্জাবের বিজেপির রাজ্য সভাপতি কেবল সিংহ ধিলোঁ জানিয়েছেন, অকাল তখ্ত শিখদের জন্য সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং তাঁদের নির্দেশাবলি শিখদের কাছে শিরোধার্য। তিনি মানকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আবেদন করেছেন, নিঃশর্তে অকাল তখ্তের কাছে তিনি যেন ক্ষমা চান। পঞ্জাবের রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘‘শ্রী অকাল তখ্ত আমাদের কাছে সর্বোচ্চ। এর উপরে কোনও কর্তৃপক্ষ নেই। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘অকাল তখ্তের নির্দেশ মেনে নিয়ে ক্ষমা না-চাওয়া পর্যন্ত বিজেপির শিখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা মানের সঙ্গে কোনও বৈঠক করবেন না।’’
আরও পড়ুন:
এই বিবৃতি রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, মানকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট বিতর্কে পঞ্জাব সরকার এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শিখ সদস্যদের মধ্যেকার সম্পর্ক প্রভাবিত হতে পারে। যদিও কেন্দ্র থেকে এই ধরনের অবস্থানের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত মেলেনি। অন্য দিকে ধিলোঁ দাবি করেছেন, বিজেপির প্রতি ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন পঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (আপ)-র সরকারের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষেরই প্রতিফলন। আর কয়েক মাস পরেই পঞ্জাবের বিধানসভা ভোট। দলের নির্বাচনী কৌশলের কথা পুনর্ব্যক্ত করে পঞ্জাবের বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‘বিজেপি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং রাজ্যে সরকার গঠন করবে।’’
এ বিষয়ে এখনও মানের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।