রাশিচক্রের যে কোনও রাশির সঙ্গেই নির্দিষ্ট গ্রহের সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ, প্রত্যেকটি রাশিকে নিয়ন্ত্রণ করে সৌরজগতের এক একটি গ্রহ। শাস্ত্রে তেমনই জানানো রয়েছে। জ্যোতিষমতে, মকর এবং কুম্ভকে নিয়ন্ত্রণ করে গ্রহরাজ শনি। সেই কারণে এই দুই রাশির জাতক-জাতিকাদের উপর শনিদেবের প্রভাব অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে বলে মনে করা হয়। তবে শনির প্রভাব রয়েছে বলে যে এই দুই রাশি একই প্রকৃতির তা কিন্তু নয়। এদের মধ্যে নানা দিক থেকে বদল দেখা যায়। শনি দ্বারা পরিচালিত দুই রাশির জাতক-জাতিকারা কেমন হন, জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
মকর রাশি: মকর রাশির জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত পরিশ্রমী হন। এঁরা ছোট থেকেই লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলেন। তবে সফলতা প্রাপ্তিতে অন্যদের তুলনায় এঁদের একটু বেশি সময় লেগে যায়। কারণ, শনি প্রথমে এঁদের পরীক্ষা নেন। তার পর ফলদান করেন। সেই কারণে মকর জাতক-জাতিকারা কঠোর পরিশ্রম করার পরই মনোমতো ফল পান। এঁরা একাচোরা প্রকৃতির হন। মনের ভাব প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন। সচরাচর সকলকে বিশ্বাস করতে পারেন না মকর জাতক-জাতিকারা। অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে নিজের জগতে মেতে থাকতে বেশি পছন্দ করেন এঁরা।
আরও পড়ুন:
কুম্ভ রাশি: শাস্ত্রমতে, শনি মকরের তুলনায় কুম্ভ জাতক-জাতিকাদের প্রতি বেশি অনুকূল বলে মনে করা হয়। এঁরাও অত্যন্ত পরিশ্রমী হন। নিয়মনিষ্ঠার প্রতিও এই রাশির জাতক-জাতিকাদের পূর্ণ মর্যাদা থাকে। কিন্তু সফলতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এঁদের বিশেষ কাঠখড় পোড়াতে হয় না। শনির কৃপায় কম বয়সেই এঁরা সফলতার শীর্ষে পৌঁছে যেতে পারেন। কুম্ভ জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত স্বাধীনচেতা প্রকৃতির হন। এঁরা যে কোনও কাজ নিজের ছন্দে করতে ভালবাসেন। অপরের বানানো নিয়মে এঁদের আটকে রাখা যায় না।
আরও পড়ুন:
প্রতিকার:
শনিদেবের পূর্ণ সুফল প্রাপ্তির জন্য এই দুই রাশির জাতক-জাতিকাদের বিশেষ কিছু উপায় পালনের কথা বলা রয়েছে শাস্ত্রে। সেগুলি কী, জেনে নিন।
- প্রতি শনিবার সন্ধ্যাবেলা অশ্বত্থগাছের নীচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালাতে হবে।
- সম্ভব হলে লোহার জিনিস, চামড়ার জুতো এবং কালো রঙের পোশাক দান করা যেতে পারে।
- নিয়মিত হনুমান চালিশা (সম্ভব না হলে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার এবং শনিবার) পাঠ করতে পারলে খুব ভাল ফলপ্রাপ্তি হবে।