কথায় বলে, হাতের পাতায় ভাগ্য লেখা থাকে। খুব একটা ভুল বলে না। জ্যোতিষশাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হস্তরেখাবিদ্যার দ্বারা তালুর বিচার করা হয়। আরও গুছিয়ে বলতে গেলে, তালুতে থাকা বিভিন্ন দাগ, চিহ্ন প্রভৃতির গোপনে লুকিয়ে থাকার কারণ আমরা হস্তরেখাবিদ্যার দ্বারা জানতে পারি। দাগ এবং রেখা ছাড়াও তালুতে নানা পর্বতের অবস্থান থাকে। তালুর ফোলা অংশ, যেগুলিকে আমরা নিছকই তালুর গঠন বলে মনে করি, সেগুলি আদতে এক এক গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের গ্রহপর্বত বলা হয়। শাস্ত্র জানাচ্ছে, তালুতে থাকা এক রেখা এবং দুই গ্রহের পর্বতের বিচার আমাদের কর্মজীবন সম্বন্ধে একটি ধারণা দিতে সক্ষম। সেগুলি কী, জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
তালুর কোন তিন অংশ পেশাজীবন সম্বন্ধে ধারণা দিতে পারে?
সূর্যপর্বত: অনামিকার নীচের ফোলা অংশটি সূর্যপর্বত নামে পরিচিত। এটি সুস্পষ্ট হওয়ার অর্থ জাতক পেশাজীবনে প্রচুর উন্নতি করতে পারেন। সমাজেও এঁদের প্রচুর নামডাক হয়। অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এঁদের কখনও ভাবতে হয় না। তবে এই সূর্য পর্বতের উপর যদি প্রচুর দাগ থাকে তা হলে বুঝতে হবে পেশাক্ষেত্রে আপনাকে প্রচুর বাধার সম্মুখীন হতে হবে। প্রতি পদে সমস্যা আপনার জন্য অপেক্ষা করবে। সমাজে নাম খারাপ হওয়ারও একটা আশঙ্কা থেকে যায়।
বুধপর্বত: কনিষ্ঠার নীচের ফোলা অংশটি বুধপর্বত হিসাবে পরিচিত। এটি সুস্পষ্ট এবং দাগবিহীন হওয়ার অর্থ জাতক অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত হন। এঁদের মেধা হয় প্রশংসনীয়। বাচনক্ষমতাও খুব ভাল হয়। কথা দ্বারা সকলকে মোহিত করতে পারেন। বহু গুণী মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার সুযোগ পান, যা এঁদের পেশাক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তবে বুধপর্বতের উপর প্রচুর দাগ থাকলে বা সুউচ্চ না হলে জাতকের কথা বলার ক্ষমতা বিশেষ ভাল হয় না। সেই কারণে পেশাক্ষেত্রে সকলে এঁদের দমিয়ে রাখার সুযোগ পেয়ে যান। নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নতুন জিনিস শেখার প্রতিও বিশেষ আগ্রহ দেখা যায় না।
আরও পড়ুন:
ভাগ্যরেখা: জ্যোতিষশাস্ত্র মতে ভাগ্যরেখা সাধারণত কব্জি বা মণিবন্ধের উপর থেকে শনির ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এই রেখা যত সোজা এবং স্পষ্ট হয়, ভাগ্য তত ভাল হয় বলে মনে করা হয়। ভাগ্যরেখায় কোনও কাটাকুটি না থাকার অর্থ জীবনে বিশেষ বাধার সম্মুখীন না হওয়া। এ সকল জাতক-জাতিকা যে কোনও কাজে সৌভাগ্যের সঙ্গ পান। তবে ভাগ্যরেখায় কাটাকুটি থাকলে জীবন অনেক কঠিন হয় বলে মনে করা হয়।