জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয় যে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অথবা নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে নেই। এই কাজ করলেই সেই ব্যক্তির চারপাশের ইতিবাচক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নেতিবাচক বা অশুভ শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। বিশ্বাস অনুযায়ী, মূলত পাঁচ জায়গায় পিছন ফিরে তাকাতে নিষেধ করা হয়।
শেষকৃত্য সম্পন্ন করে ফেরার পথে
সনাতন ধর্মে শ্মশানকে নেতিবাচক এবং বিদায়ী শক্তির স্থান বলে মনে করা হয়। শেষকৃত্য শেষ করে যখন কোনও ব্যক্তি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন, তখন ভুল করেও পিছন ফিরে তাকাতে নেই। বিশ্বাস করা হয়, পিছন ফিরে তাকালে মৃত ব্যক্তির প্রতি মোহ বা সেই স্থানের নেতিবাচক শক্তি বাড়ির পথ ধরতে পারে।
চৌরাস্তা
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, চৌরাস্তাকে শক্তির মিলনস্থল বলে গণ্য করা হয়। চলার পথে সেখানে পিছন ফিরে থাকালে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশ্বাস করা হয় যে, চৌরাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অথবা সন্ধ্যায় জনমানবহীন রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে পিছন ফিরে তাকাতে নেই। এর ফলে নেতিবাচক শক্তি আকর্ষিত হয় এবং সেই ব্যক্তির জীবনে অশুভ প্রভাব পড়ে।
আরও পড়ুন:
প্রতারক ব্যক্তির গৃহত্যাগ
যে ধরনের ব্যক্তি ঈর্ষাপরায়ণ অথবা প্রতারক স্বভাবের হন, তাঁদের বাড়ি বা সঙ্গ ত্যাগ করার মুহূর্তে কখনও পিছনে ফিরে তাকাবেন না। জ্যোতিষমতে, যত দ্রুত দুষ্ট ব্যক্তির সঙ্গ ত্যাগ করা সম্ভব, ততই মঙ্গল। পিছনে ফিরে তাকানো সেই দুষ্ট ব্যক্তির প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত আসক্তির পরিচায়ক। পিছন ফিরে তাকালে জীবনে ক্ষতির অন্ত থাকে না।
বিবাদপূর্ণ স্থান ত্যাগ করা
যদি কোনও আইনি বিষয় নিয়ে বার বার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় অথবা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে অশান্তি করে বাড়ি ফিরে আসেন, তবে সেই ধরনের পরিস্থিতিতে পিছন ফিরতে তাকাতে নেই। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কোনও বিবাদপূর্ণ স্থান ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় পিছু ফিরে তাকানো সংঘাত থেকে মানসিক ভাবে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে মুক্ত করতে না পারার ইঙ্গিত বহন করে। এর ফলে সেই ব্যক্তির জীবনে নেতিবাচক শক্তি বাসা বাঁধে।
টাকা ধার দেওয়ার পর
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, যদি কোনও অভাবী ব্যক্তিকে সাহায্য করেন অথবা টাকা ধার দেন, তবে সেখান থেকে ফেরার সময় পিছনে ফিরে তাকানো উচিত নয়। মনে করা হয়, এই পরিস্থিতিতে পিছন ফিরে তাকালে সেই ব্যক্তিকে অর্থ দেওয়া নিয়ে লোভ বা অনুশোচনা রয়েছে। তার ফলে জীবনে অমঙ্গলের ছায়া পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।