ভবানীপুরের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই হাই কোর্টে পৌঁছে যান তিনি। ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে হলফনামা দাখিল করেন তিনি। তৃণমূলের নির্বাচনী ভরাডুবির পর এই নিয়ে দ্বিতীয় বার হাই কোর্টে গেলেন মমতা।
এর আগে গত ১৪ মে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা। ভোট-পরবর্তী অশান্তির মামলায় সওয়াল করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই বার আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। এজলাস থেকে মমতা বেরোনোর পর তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান উঠেছিল। ওই ঘটনার প্রায় এক মাস পরে, ১৬ জুন ফের হাই কোর্টে হাজির হলেন মমতা।
মঙ্গলবার তৃণমূলনেত্রী হঠাৎ হাই কোর্টে পৌঁছে যাওয়ায় আশপাশে উপস্থিত অনেকেই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। পরে মমতার এক আইনজীবী জানান, ভবানীপুর নিয়ে ইলেকশন পিটিশন করেছেন তৃণমূল নেত্রী। জানা যাচ্ছে, ওই বিষয়েই হলফনামা দাখিল করেছেন তিনি। মমতার সঙ্গে মঙ্গলবার হাই কোর্টে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ এবং দোলা সেনও। আদালতে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফের গাড়িতে উঠে হাই কোর্ট চত্বর থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
আরও পড়ুন:
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে শুভেন্দুর কাছে পরাস্ত হন মমতা। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে দেন শুভেন্দু। এ বার সেই নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে হলফনামা দাখিল করলেন মমতা। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও নন্দীগ্রাম থেকে মমতাকে হারান শুভেন্দু। সেই বারও নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেছিলেন মমতা। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম মামলা এখনও বিচারাধীন। এ বার ২০২৬ সালের ভবানীপুরের ফলকে চ্যালেঞ্জ করেও আদালতে গেলেন মমতা। পাশাপাশি রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ও নির্বাচনী ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে ভোটগণনার দিন থেকেই অভিযোগ তুলে আসছিলেন মমতা। ওই দিন দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে ভবানীপুরের ভোটগণনা চলছিল। গণনার বেশ কয়েক রাউন্ড বাকি থাকতেই সে দিন সন্ধ্যায় গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যান মমতা। সঙ্গে অভিযোগ করেন, পুরোটাই ‘একতরফা’ ভাবে হচ্ছে। তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে এবং মারা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তোলেন ‘ভোটলুটের’ অভিযোগও।