E-Paper

প্রার্থী-সহ বহু তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা উঠল

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পুর এলাকার এক বিজেপি নেতারও নিরাপত্তা প্রত্যাহার হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের এক তৃণমূল প্রার্থীর নিরাপত্তারক্ষীকেও তুলে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৯

—প্রতীকী চিত্র।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো শুক্রবার রাত থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে, এমন রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। এঁদের মধ্যে শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনারই ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বাহারুল ইসলাম ও তাঁর ভাই সাবিরুল ইসলাম-সহ ভাঙড়ের অন্তত এক ডজন তৃণমূল নেতা রয়েছেন। এর ফলে ভোটের মুখে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাহারুল-সহ ওই নেতাদের একাংশ।

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পুর এলাকার এক বিজেপি নেতারও নিরাপত্তা প্রত্যাহার হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের এক তৃণমূল প্রার্থীর নিরাপত্তারক্ষীকেও তুলে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের এক কর্তা বলেন, ‘‘ভাঙড়ের যে সব নেতার নামে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বা যাঁরা হাজতবাস করেছেন, তাঁদের নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে।’’

২০১৩ সালে ভাঙড়ে একটি খুনের ঘটনায় নাম জড়ানোয় বাহারুলকে বেশ কিছুদিন হাজতবাস করতে হয়। তবে, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ভাঙড়ে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষে সাত জনের মৃত্যু হয়েছিল। গণনাকেন্দ্রেও হামলা চলেছিল। ওই নির্বাচনে জিতে জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ হয়ে বাহারুল নিরাপত্তার আবেদন জানান। তার প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে দু’জন অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয় ২০২৪-এর ভোটের আগে।

বাহারুলের ভাই-সহ শাসকদলের বাকি নেতার নিরাপত্তারক্ষী পান গত বছর ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খান খুনের পরে। সেই তালিকায় রয়েছেন ভাঙড় ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শাহজাহান মোল্লা, ওই পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ আহসান মোল্লা, ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ খয়রুল ইসলাম প্রমুখ। এঁদের কারও আর নিরাপত্তারক্ষী রইল না।

বাহারুল শনিবার বলেন, ‘‘রাতবিরেতে নানা জায়গায় প্রচারে যেতে হচ্ছে। ফাঁকা রাস্তা দিয়ে ফিরতে হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ায় কিছুটা চিন্তা থাকছেই। এমনিতেই ভাঙড়ে ঘন ঘন বোমা-বন্দুক উদ্ধার হচ্ছে। আতঙ্কে আছি।’’ হাজতবাস প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।’’ এ দিন জলপাইগুড়িতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘শুনলাম, কমিশন ডিজিকে জিজ্ঞাসা করেছে, নেতাদের সবার পিছনে দু’চারটে করে পুলিশ কেন? এরা কী এমন অপরাধ করেছে, যাতে নিরাপত্তা দিতে হয়! চুরি করে, তাই এত নিরাপত্তা। জনতাধরে পেটাবে।’’

উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের যাঁদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই তৃণমূলের পুরপ্রতিনিধি (কাউন্সিলর) বা পঞ্চায়েত সদস্য। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘কমিশনের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই বহু নেতার নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে। পুলিশকে বিস্তারিত ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি, কার বিরুদ্ধে কী মামলা আছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy