E-Paper

দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশ

তথ‍্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় বিচারকদের বিবেচনায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার থাকছে না। তবে বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে এঁদের মধ্যে কারও যোগ‍্যতা প্রমাণিত হলে সেই নামগুলি তালিকাভুক্ত হবে কি না, তা নির্ভর করবে ১৩ এপ্রিলের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উপর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৫

—প্রতীকী চিত্র।

প্রকাশিত হল দ্বিতীয় দফার ভোটের জন‍্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কমিশন সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মধ‍্যরাতে ‘ফ্রিজ়’ হয়েছে ভোটার তালিকা। তার পরে তা প্রকাশিত হয়েছে। এই ভোটার তালিকা তুলে দেওয়া হবে সব রাজনৈতিক প্রার্থীর হাতে। এর ভিত্তিতে হবে আগামী ভোটদান।

তথ‍্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় বিচারকদের বিবেচনায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার থাকছে না। তবে বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে এঁদের মধ্যে কারও যোগ‍্যতা প্রমাণিত হলে সেই নামগুলি তালিকাভুক্ত হবে কি না, তা নির্ভর করবে ১৩ এপ্রিলের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উপর। তবে এখনও বিচারকেরা প্রায় ২২ হাজার ১৬৩ জন ভোটারের বিষয়টি নিষ্পত্তি করেননি বলে কমিশন সূত্রের দাবি।

মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের পরে প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এই হিসাবে ৬ এপ্রিল ছিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন পত্র জমা করার শেষ দিন। সে দিন মধ্যরাতের পরে ওই দফায় ১৫২টি বিধানসভা আসনের জন্য ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ছিল দ্বিতীয় দফার মনোনয়ন পত্র জমা করার শেষ দিন।

এ দিন মধ্যরাতের পরে ওই দফার ১৪২টি বিধানসভা আসনের জন্য ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত মূল ভোটার তালিকায় যোগ‍্য ভোটার হিসেবে চিহ্নিতদের পাশাপাশি ছিল ‘বিবেচনাধীন’ তকমা লাগানো নাম। বিবেচনাধীনের মধ্যে বিচারকেরা যাঁদের যোগ্য বলে রায় দিয়েছেন, তাঁদের নাম থেকে ‘বিবেচনাধীন’ শব্দটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাঁরা যোগ্য বলে প্রতিষ্ঠিত হননি, তাঁদের নাম ‘ডিলিটেড’হিসেবে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারির পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ‍্যে যাঁরা ফর্ম-৬ দাখিল করে নতুন ভোটার হতে চেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে যোগ্য আবেদনকারীদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকছে।ফর্ম-৭ দাখিলের মাধ্যমে নাম বাদ বা ফর্ম-৮ এর ভিত্তিতে সংশোধনের তথ‍্যও তালিকায় থাকছে বলেসূত্রের দাবি।

ইতিমধ্যেই বিবেচনাধীন হিসেবে বাদ পড়া ভোটারেরা বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে পুনর্বিবেচনার আবেদন করছেন। সেই লক্ষ লক্ষ আবেদনের কবে নিষ্পত্তি হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আগামী ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট শুনানিতে কোনও নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ, ৬ এবং ৯ এপ্রিল যে তালিকা প্রকাশ পেয়েছে, তাতে ভোটের আগে নতুন আর কোনও নাম ঢোকা বা বাদ যাওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, তথ্যগ্রাহ‍্য অসঙ্গতির যে তালিকা প্রকাশ পেয়েছে তাতে, মোট প্রায় ৬০ লক্ষের মধ্যে বিচারকদের বিচারে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার এবং নাম কাটা গিয়েছে প্রায় ২৭.১৬ লক্ষ মানুষের। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ৪৫.২২%। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৯০ লক্ষ ৮৩হাজার ৩৪৫। এ দিকে, কমিশন বরাবরের মতো নির্দেশ দিয়েছে, ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাবে না সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ বা স্টুডেন্ট পুলিশকে। ওই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। ভোট গ্রহণের তিন দিন আগে এবং ভোট গ্রহণের পরের দিন পর্যন্ত উর্দি গায়ে কোনও ধরনের ডিউটিও করতে পারবেন না সিভিক ভলান্টিয়ার বা গ্রিন পুলিশকর্মীরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy