২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক কড়া নির্দেশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের সব জেল ও সংশোধনাগারে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনকে একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি সংশোধনাগারে নিয়মিত ‘আচমকা পরিদর্শন’ চালাতে হবে এবং পরিদর্শনের বিষয়ে প্রতিবার বিস্তারিত রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে। এই ‘চেকিং’ পরিচালনা করবেন ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) বা সুপারিন্টেনডেন্ট পদমর্যাদার আধিকারিকেরা। উদ্দেশ্য, জেলগুলির অভ্যন্তরে কোনওরকম বেআইনি কার্যকলাপ বা নিরাপত্তা ঘাটতি রুখে দেওয়া।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ভোটপর্ব চলাকালীন কোনও বন্দিকে প্যারোল, ফার্লো বা অস্থায়ী মুক্তি দেওয়া যাবে না। তবে একান্ত মানবিক কারণে বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিকের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও সংশোধনাগারগুলিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার রুখতে সিগন্যাল জ্যামারগুলির কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। প্রতিদিন জ্যামার পরীক্ষা করতে হবে এবং কোথাও কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে তা দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে বলে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ডিজি (কারা) পদেও পরিবর্তন আনে। লক্ষ্মীনারায়ণ মীনা-কে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয় এন রমেশ বাবু-কে। এই বদলির পরই সংশোধনাগারগুলিতে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। ভোটের আগে সংশোধনাগারের ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোনওরকম প্রভাব বা অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।