যুদ্ধ হয় রাজায় রাজায়, নষ্ট হয় হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ। এমনই খতিয়ান সম্প্রতি তুলে ধরেছে ইউনেস্কো। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্কুলছুট হচ্ছে কোটি কোটি শিশু।
সোমবার এক রিপোর্টে ইউনেস্কো জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলির প্রায় ১০ কোটি শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থা একেবারে ধসে গিয়েছে ১৫টি দেশে। গত কয়েক মাসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় ৫ কোটি স্কুলপড়ুয়া পড়াশোনা। তারও আগে প্রায় ৩ কোটি শিশু স্কুলছুট হয়ে পড়েছিল। কোথাও স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, কোথাও পড়ুয়ারাই স্কুল থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। পড়াশোনার পরিবেশই নেই।
গাজ়ায় শিক্ষাব্যবস্থা বলে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। হিসাব বলছে, প্রায় ৯৭.৫ শতাংশ স্কুল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে অথবা, সেখানে পঠনপাঠনের পরিবেশ নেই। ৬ লক্ষ ৩৭ হাজার শিশু স্কুলছুট।
একই পরিস্থিতি লেবানন, সিরিয়ার মতো দেশেও। লেবাননের প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। নানা কারণে সে দেশে স্কুল খোলা রাখা যাচ্ছে না। প্রায় ৫৭০টি স্কুল একেবারে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার মধ্যে পড়ছে। সেখানে প্রতিদিনই হামলা চলে। ফলে স্কুল বন্ধ। আবার প্রায় ১,১০০ স্কুলে প্রশাসন আশ্রয় শিবির গড়ে তুলছে।
আরও পড়ুন:
এখানে প্রশ্ন উঠছে আরও একটি বিষয় নিয়ে। স্কুল খোলা থাকলেই কি পড়াশোনা করার মতো মানসিকতা রয়েছে শিশুদের। একবাক্যে বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, না। যুদ্ধ পরিস্থিতি, স্বজন হারানোর শোক বা পারিপার্শ্বিক আবহ ছোটদের মনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ফলে পড়াশোনা করার আগ্রহও হারিয়ে ফেলছে তারা।
সিরিয়ায় আবার চাপ বাড়ছে লেবানন থেকে আসা মানুষের। সেখানেও স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। সরাসরি যুদ্ধ প্রভাব না থাকলেও ইরাকের স্কুলগুলিতেও পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। হিসাব বলছে, সে দেশের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার স্কুলে পড়ুয়ারা আর পড়তে আসছে না। বরং প্রায় ২০ লক্ষ পড়ুয়া। তারা অনলাইন ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে কোথাও স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মাঝে মাঝে। কোথাও চালু করা হয়েছে দূরশিক্ষা ব্যবস্থা।
এই পরিস্থিতিতে ইউনেস্কো আশু কর্তব্য নির্ধারণের পথে হাঁটতে চাইছে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে একটি প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাবে। মানবসম্পদের ব্যাপক বিনষ্টি প্রত্যক্ষ করবে পৃথিবী। আরব দেশগুলির জন্য আপৎকালীন ভিত্তিতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মহলকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।