Advertisement
E-Paper

সরকার গড়ছে বিজেপি, কথা রাখুন শুভেন্দু, যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকেরা চান ন্যায় বিচার

সোমবার সকাল থেকে রাজ্য বিধানসভার ভোটগণনায় দাপট বজায় রেখেছে বিজেপি। বেলা গড়াতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এ রাজ্যের ভবিষ্যৎ। আর সেই মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর একটি ভিডিয়ো বক্তব্য।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১৪:৩০

গ্রাফিক : আনন্দবাজার ডট কম

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে চাকরি গিয়েছিল ১৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের। অথচ, তাঁরা কোনও ভাবেই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ১০ বছর শিক্ষকতা করে ফের যোগ্যতার পরীক্ষায় বসতে হয়েছে তাঁদের। কেউ পাশ করেছেন, কেউ করতে পারেননি। ফলে খোয়াতে হচ্ছে চাকরি। ৩১ অগস্ট ২০২৬-এর পর তাঁরা কর্মহীন।

এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বদলে গিয়েছে ক্ষমতার সমীকরণ। তাই নতুন করে প্রত্যাশার প্রহর গুণতে শুরু করেছেন ২০২৫ স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পারা, ২০১৬ বাতিল প্যানেলের যোগ্য চাকরিহারারা। নেপথ্যে রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি।

সোমবার সকাল থেকে রাজ্য বিধানসভার ভোটগণনায় দাপট বজায় রেখেছে বিজেপি। বেলা গড়াতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এ রাজ্যের ভবিষ্যৎ। আর সেই মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর একটি ভিডিয়ো বক্তব্য (আনন্দবাজার ডট কম এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি)। সেখানে তিনি বলছেন, “আমরা আছি। আমি বলছি, বিজেপি সরকার যে দিন হবে, যোগ্য তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি সরকার যাবে। দায়িত্ব আমার।”

বর্তমানে মালদহ জেলার গাজোলের গোবিন্দপুর হাইস্কুলের নবম-দশম স্তরে বাংলার শিক্ষকতা করেন বিশেষ ভাবে সক্ষম শুক্লা বিশ্বাস। কিন্তু সর্বশেষ পরীক্ষায় তিনি মেধাতালিকায় স্থান করে নিতে পারেননি। তিনি এ দিন বলেন, “৯০ শতাংশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ৩১ অগস্টের পরে চাকরি চলে গেলে বাঁচব কী করে? আমাদের তো কোনও দোষ নেই।”

শুক্লার বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা বাবা-মা। ২০১৬ এসএসসি-তে চাকরি পেয়েছিলেন। সে সময় তাঁর ৭০ শতাংশ দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা ছিলে বলে দাবি। শুক্লা সেই চাকরি পেয়ে ব্যাঙ্কঋণ নিয়ে বসত বাড়ির মেরামতি শুরু করেছিলেন। সেই কাজও থমকে গিয়েছে। তিনি বলেন, “এর পর চাকরি না থাকলে, ঋণ শোধ করতে বাড়ি বিক্রি করে দিতে হবে। তখন পরিবারকে নিয়ে কোথায় যাব? রাস্তায় নেমে আসা ছাড়া আর উপায় থাকবে না।”

যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের তরফে মেহবুব মণ্ডল জানিয়েছেন এই সব শিক্ষকদের নিয়েই তাঁরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কেউ কয়েক নম্বরের জন্য এ বার মেধাতালিকায় ঠাঁই পাননি। কেউ ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি। অথচ, এঁদের সকলের বয়স বেড়ে গিয়েছে ১০ বছর। এত দিন পরে যোগ্যতার পরীক্ষায় তাঁরা সমান সক্ষমতা নিয়ে বসতে পারেননি। অসম প্রতিযোগিতায় তাঁরা হারিয়েছেন নিজের অর্জন।

মেহবুব বলেন, “তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণে যে সব নিরপরাধ শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে, তাঁরা এখনও ন্যায় বিচার পায়নি। বিরোধী নেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে যোগ্যদের চাকরি ফেরানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন। এ বার তাঁরা কী করেন তার দিকে তাকিয়ে বসে আছি। কয়েক হাজার পরিবার কৃতজ্ঞ থাকবে যদি এ কাজ তাঁরা করেন।”

Suvendu Adhikari WB Teachers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy