Advertisement
E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_04-05-26

অর্থ বিভাগের গড়িমসি, থমকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা! সরব শিক্ষকদের একাংশ

নিয়ম অনুযায়ী কোনও প্রকল্পের টাকা পেতে হলে আগের প্রকল্পের হিসাব দাখিল করতে হয়। সে জন্য প্রয়োজন ইউসি (ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট)। কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগ সেই শংসাপত্র দিতেই মাসের পর মাস পার করে দেয়। এ কারণে বহু ক্ষেত্রেই পরের প্রকল্পের টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ১৪:৩৯
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।

আর্থিক কারণে থমকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজ। অভিযোগ উঠেছে বার বার। শিক্ষকেরা দাবি করেছেন বিভিন্ন প্রকল্প খাতে বরাদ্দ কমেছে। এ বার অভিযোগ উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের গড়িমসি নিয়ে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই উপাচার্যের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোনও প্রকল্পের টাকা পেতে হলে আগের প্রকল্পের হিসাব দাখিল করতে হয়। সে জন্য প্রয়োজন ইউসি (ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট)। কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগ সেই শংসাপত্র দিতেই মাসের পর মাস পার করে দেয়। এ কারণে বহু ক্ষেত্রেই পরের প্রকল্পের টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ। বার বার অফিসে গিয়েও খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে বলেও অভিযোগ। গবেষণা করতে গিয়ে কার্যত বিপাকে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকদের অনেকে।

আর এক শিক্ষক দাবি করেছেন, বিভাগীয় ঢিলেমি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খরচের হিসাব জমা না দিতে পারলে গবেষণা বা অন্য প্রকল্পের খাতে টাকা পাওয়া যায় না। ফলে গবেষণার কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। পাশাপাশি বহু প্রকল্পের টাকাও হারাতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক বলেন, ‘‘বহু ক্ষেত্রে এমনও হয়েছে, নতুন কোনও প্রকল্প পাওয়ার জন্য আবেদন করতেই জানিয়ে কেন্দ্রীয় দফতর থেকে দেওয়া হয়েছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আগের একটি প্রকল্পের ইউসি দেয়নি। তাই নতুন করে আর কোনও প্রকল্পে টাকা দেওয়া হবে না। এটা আমাদের রাজ্যবাসীর সকলের অপমান।’’ শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই কারণেই কেন্দ্রীয় ক্রমতালিকায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের অবনমন ঘটছে ঠিক এই কারণেই। ক্ষুণ্ণ হচ্ছে গরিমা।

এরই পাশাপাশি উঠছে অর্থ বিভাগের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্বব্যহারের অভিযোগও উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটা-র সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ বলেন, ‘‘উপাচার্যের কাছে আমরা মৌখিক ভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। দ্রুত অবস্থা পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু যদি এ ভাবে চলতে থাকে তা হলে আন্দোলনের পথে যেতে হবে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানকে কখনই ক্ষুন্ন হতে দেওয়া যাবে না।’’

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কর্মবিরতির পথেও যেতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ। যদিও উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই খতিয়ে দেখবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্যেও নানা গবেষণা ও প্রকল্পের কাজ করতে হয়। তাঁরা বেশ সমস্যায় পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একই ভাবে যে সব শিক্ষকদের আর পদোন্নতির প্রয়োজন নেই তাঁরা এই পদ্ধতির মধ্যে আর যেতেই চাইছেন না। তার ফলে আখেরে কমে যাচ্ছে গবেষণার কাজ। শিক্ষকদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির জন্যে গোটা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উপরেই প্রভাব পড়ছে। দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তন চাইছেন শিক্ষকেরা।

Research CU
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy