গত কয়েক বছর এ রাজ্যের কলেজগুলিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বহু আসন ফাঁকা পড়ে থেকেছে বলে অভিযোগ। এ বার সেই ফাঁক পূরণ করতে এবং পড়ুয়াদের সুবিধার্থে কাউন্সেলিং পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনছে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল। আগামী ২৯ জুনের মধ্যেই কাউন্সেলিংয়ের দিন ঘোষণা হবে বলে জানান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম পাল। বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের এ বার তিনটি বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে বদলে যাচ্ছে গোটা কাউন্সেলিং পদ্ধতিটিই।
প্রথমত, এ বছর তিন বার কাউন্সেলিং হবে। প্রত্যেক পড়ুয়াকে প্রতি বারই পৃথক পৃথক ভাবে বিষয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হবে। অতীতে একবারই এই নির্বাচনের সুযোগ ছিল। সেই ব্যবস্থার পুরোপুরি পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে। অর্থাৎ, কোনও পড়ুয়া প্রথম রাউন্ডে যদি সুযোগ না পান তা হলে পরের রাউন্ডে অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানে অন্য একটি বিষয়েও আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে পড়ুয়াদের কাছে অনেক বেশি সুযোগ থাকবে বলে জানান বোর্ডের এক কর্তা। যদিও প্রতিবার আলাদা করে রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু শূন্যপদ অনুযায়ীই আবেদন করতে পারবেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয়ত, যে কোনও রাউন্ডে যে কোনও পড়ুয়া রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। যদি কোনও পড়ুয়া কোনও কারণে প্রথম রাউন্ডে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারেন, তা হলে পরের দু’টি রাউন্ডেও রেজিস্ট্রেশন করে কাউন্সেলিং পদ্ধতিতে যুক্ত হতে পারবেন।
শিক্ষামহলের দাবি অনেকে সর্বভারতীয় কোনও পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করেন। সেখানে সুযোগ না পেয়েও অনেকে এই কাউন্সেলিংয়ে যোগ দিতে চান। এত দিন তাঁরা এই সুযোগ পেতেন না। পরিস্থিতি বিচার করে এ বার নতুন পদ্ধতিতে কাউন্সেলিং করবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড।
তৃতীয়ত পড়ুয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া থাকবে। কোনও প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কোনও বিষয়ের গত বছরের তথ্য দেওয়া থাকবে। ওই বিষয়ে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত র্যাঙ্কের পড়ুয়ারা গত বছরে সুযোগ পেয়েছেন সেটা জানতে পারবেন আবেদনকারীরা। ফলে কোনও পরীক্ষার্থী নিজের র্যাঙ্কের সঙ্গে মিলিয়ে প্রাথমিক ধারণা পাবেন আদৌ ওই প্রতিষ্ঠানে নিজের পছন্দের বিষয়টি পড়তে পারবেন কি না।
এই সব নিয়ম পরিবর্তনের ফলে পড়ুয়াদের কাছে যেমন বাড়তি সুযোগ থাকবে তেমনই কলেজগুলিতেও ভর্তির চিত্র উন্নত হতে পারে বলে ধারণা।