প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট জট থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে শুরু হচ্ছে আন্দোলন, সারা দেশে সঙ্গে এ রাজ্যে। পূর্বঘোষণা মতো বৃহস্পতিবারই কর্মসূচি পালন করেছে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (বিদ্যালয় শাখা), পশ্চিমবঙ্গ (এবিআরএসএম)। শুক্রবার কলকাতা মিছিল ও অবস্থান বিক্ষোভ করবে ৮টি বাম শিক্ষক সংগঠন।
২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট এক মামলার প্রেক্ষিতে রায় দিয়েছে, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। এ জন্য ২০২৮-এর সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। যাঁদের টেট যোগ্যতা নেই, তাঁদের ওই সময়ের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে যাঁরা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে অবসর নেবেন, তাঁদের আর ওই পরীক্ষায় বসতে হবে না।
এরই প্রতিবাদে সারা দেশ জুড়ে চলছে আন্দোলন। সারা দেশের প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষকের উপর এই রায়ের প্রভাব পড়বে। চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে দেশের প্রত্যেক জেলাশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (বিদ্যালয় শাখা), পশ্চিমবঙ্গ (এবিআরএসএম)। বৃহস্পতিবার এ রাজ্যের জেলাশাসকদের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের সদস্যেরা। জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে ধর্নাও দেন। সংগঠনের দাবি, আগামী বাদল অধিবেশনে টেট সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের অধিকার রক্ষা করুক কেন্দ্রীয় সরকার।
এ দিকে শুক্রবার, ১৯ জুন বামেদের ৮টি শিক্ষক সংগঠন ফের বিভিন্ন দাবি নিয়ে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান বিক্ষোভ করবে। এর আগেও মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সংগঠনের সদস্যেরা। শুক্রবার ধর্মতলায় টেট সমস্যা থেকে রাজ্যের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষককে অব্যাহতির পাশাপাশি, যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি রক্ষা, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদানের দাবি তোলা হবে। ওই দিন বেলা ১টা থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান ও বিক্ষোভ করবেন সদস্যেরা।
শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ কার্যকর হয় ২০১০-এ। সেই আইন অনুযায়ী বিধি তৈরি করে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স ট্রেনিং বা এনসিটিই। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাইয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত নিয়ম চালু হয়। সেখানে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়।
এই তথ্যের উল্লেখ করেই সম্প্রতি নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সংগঠন আবেদন করেছিল, এই আইন কার্যকর হওয়ার আগে থেকে যে সকল শিক্ষক কর্মরত, তাঁদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হোক। কারণ, ২০১১-র আগে কাজে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক ছিল না। তাই, এই মুহূর্তে সারা দেশে ২০ লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন। এ রাজ্যে সেই সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি।
শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই ২০১০-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, টেট আবশ্যিক যোগ্যতা। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ২০১১ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তদের নিয়ে।
অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (বিদ্যালয় শাখা), পশ্চিমবঙ্গ (এবিআরএসএম) রাজ্য সম্পাদক বাপি প্রামাণিক বলেন, ‘‘আমাদের দাবিগুলি স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। দেশের সব জেলাশাসকের কাছে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই কেন্দ্রীয় সরকার লক্ষ লক্ষ শিক্ষককে টেট সমস্যা থেকে মুক্তি দিক।’’