E-Paper

মোফাক্কেরুল কার লোক, চলছে তরজা

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মালদহের ঘটনায় যে ধরা পড়েছে সে পাগড়িধারী, টাকাধারী, বিজেপির দালাল। হাতেনাতে সিআইডি গ্রেফতার করেছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা।’’

অভিজিৎ সাহা , জয়ন্ত সেন

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০১
মোফাক্কেরুল ইসলাম।

মোফাক্কেরুল ইসলাম। — ফাইল চিত্র।

মালদহের জাতীয় সড়ক কাণ্ডে ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম কাদের লোক— তা নিয়ে তরজা তুঙ্গে। শুক্রবার মালদহ এবং রায়গঞ্জের নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোফাক্কেরুলকে ‘বিজেপির লোক’ দাবি করে সরব হন। আইএসএফ, এমআইএম (মিম) এবং হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিকে (এজেইউপি) এক বন্ধনীতে রেখেও অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, মোফাক্কেরুলের সঙ্গে তৃণমূলের পুরনো সম্পর্ক রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘মালদহের ঘটনায় যে ধরা পড়েছে সে পাগড়িধারী, টাকাধারী, বিজেপির দালাল। হাতেনাতে সিআইডি গ্রেফতার করেছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা।’’ অন্য দিকে, মোফাক্কেরুলকে যখন সিআইডি গ্রেফতার করে, তখন তিনি নেপালে পালাচ্ছিলেন দাবি করে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘মোফাক্কেরুল মূলত ইটাহারের বাসিন্দা। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং তাঁদের সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতির বাড়ি। ভাল করে তদন্ত করে দেখা উচিত, মোফাক্কেরুল আদতে কার হয়ে কাজ করছেন। দুই ইটাহারবাসীর মধ্যে কোনও যোগসূত্র, পরিকল্পনা ছিল কি না, দেখা দরকার।’’

ইটাহারের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন অবশ্য বলেন, ‘‘বিজেপি ২০২১ সালে আমাকে হারাতে মোফাক্কেরুলকে প্রার্থী করতে টাকা ঢেলেছিল। বিজেপি চক্রান্ত করে মোফাক্কেরুলকে কাজে লাগাচ্ছে।’’ এ দিন জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘‘বুধবার কে গন্ডগোল করেছে? হায়দরাবাদ থেকে বিজেপির কোকিল এসেছিল। হায়দরাবাদ থেকে বিহারে ভোট দিয়েছিল। মালদহেও তা-ই করছে।’’

কলকাতা-শিলিগুড়ি জাতীয় সড়কে বুধবার ১৬ ঘণ্টা অবরোধ-আন্দোলনের পিছনে নানা ইন্ধন কাজ করেছে বলে অবশ্য মনে করছে পুলিশের একাংশ। সূত্রের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে সে দিন সুজাপুরে অরাজনৈতিক ভাবে আন্দোলন শুরু করেন স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। পরে, বিষয়টি সমাজমাধ্যমে ছড়ায় এবং বহু লোক শামিল হন। রাত বাড়তে থাকলে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ কিছু ‘কট্টরপন্থীর’ হাতে চলে যায়।

সুজাপুর আসনে প্রার্থী দিয়েছে এমআইএম। তাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে হুমায়ুন কবীরের দলের। এ বার সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। সুজাপুরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল গনিকে দল টিকিট দেয়নি। এই গনির প্রচারেই অতীতে মুখ্যমন্ত্রীর সভা-মঞ্চে মোফাক্কেরুলকে দেখা গিয়েছিল বলে বিজেপির দাবি। তাই এলাকার দখল নিতে এমআইএম তৎপর বলে তৃণমূলের অভিযোগ। এমআইএমের জেলা নেতা মতিউর রহমান বলেন, ‘‘ঘটনায় এমআইএমকে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।’’ এজেইউপির অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক নাসিমুল হক বলেন, ‘‘আন্দোলনে এমআইএম কেন জড়াবে, বুঝতে পারছি না।’’

বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিকে। শুক্রবার হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে আইএসএফ চেয়ারম্যান নওসাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘‘মোথাবাড়িতে মানুষ তৃণমূল বা বিজেপির পাশে নেই। ওখানে চক্রান্ত করে আমাদের প্রার্থীকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা জামিনে ছাড়িয়ে আনব।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমাদের প্রার্থী মোথাবাড়িতে এসআইআর নিয়ে সহযোগিতার জন্য ক্যাম্প করেছিলেন। সেখানে পুলিশ লাঠি চালাল কেন, তার জবাব মানুষ ভোটের বাক্সে দেবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Malda

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy