Advertisement

নবান্ন অভিযান

পোস্টাল ব্যালট আগেই গোনা হবে? না কি পরে? ইভিএমের গণনা সাময়িক ভাবে থমকাতে পারে, কেন? কী জানাল কমিশন

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুম ঘিরে বিতর্কও এই পোস্টাল ব্যালটকে ঘিরেই। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, সেখানে নিয়ম না-মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ করা হয়েছে। যদিও কমিশন জানিয়েছিল, ওই কাজের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ইমেল করা হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ২২:০৮
গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ভোটগণনা পর্ব।

গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ভোটগণনা পর্ব। —ফাইল চিত্র।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে। রাজ্যের ২৯৩টি আসন (ফলতা আসনে নতুন করে নির্বাচন ঘোষণা করেছে কমিশন)-এর গণনার জন্য মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্র রয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের গণনা আগে শুরু হবে। গণনাপর্ব শুরুর প্রথম আধ ঘণ্টা শুধু পোস্টাল ব্যালটই গণনা হবে। তার পরে সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে ইভিএমের গণনা। তখন থেকে পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম দুই-ই একসঙ্গে গণনা চলবে।

দিল্লির নির্বাচন সদন জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে ইভিএম গণনা। তার পরে উভয় গণনাই একসঙ্গে চলবে। কিন্তু পোস্টাল ব্যালটের গণনা আগে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ, ইভিএমের সব রাউন্ড গণনা শেষ হওয়ার আগেই পোস্টাল ব্যালটের গণনা সেরে ফেলতে হবে। সে ক্ষেত্রে যদি দেখা যায়, ইভিএম গণনার শেষ দু’রাউন্ডে গিয়েও পোস্টাল ব্যালটের গণনা শেষ হয়নি— তখন ইভিএম গণনা সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকবে। পোস্টাল ব্যালটের গণনা শেষ করে তার পরে আবার ইভিএমের বাকি রাউন্ডের গণনা শুরু হবে। শেষে ইভিএম দিয়েই পুরো রাউন্ডের গণনা শেষ হবে। সাধারণত ভাবে পোস্টাল ব্যালটের ভোটই আগে গণনা শুরু হয়। তবে ইভিএম গণনা শেষ হওয়ার আগে পোস্টাল ব্যালটের গণনা শেষ করে ফেলতে হবে— এই নিয়ম শুরু হয় বিহার ভোটের আগে থেকে।

গণনাকেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটগুলি গোনার জন্য পৃথক ঘর থাকে। রাজ্যে ২৯৩টি আসনের গণনার জন্য যে ৭৭টি গণনাকেন্দ্র রয়েছে, তাতে মোট ২৯৩টি ঘর রয়েছে পোস্টাল ব্যালট গোনার জন্য। ভোটকর্মীদের পাশাপাশি বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেওয়া হয়। রেল পরিষেবা, মেট্রো রেল পরিষেবা, রাজ্য দুগ্ধ ইউনিয়ন এবং সমবায়, স্বাস্থ্য দফতর, সড়ক পরিবহণ নিগম, অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবা (দমকল), পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং হোমগার্ড, কারা দফতর, আবগারি দফতর, ট্রেজ়ারি পরিষেবা, তথ্য ও জনসংযোগ দফতর, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা, খাদ্য ও গণবণ্টন, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত সংবাদকর্মীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুবিধা পান। পাশাপাশি দেশের সকল সেনাকর্মী পৃথক উপায়ে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের সুযোগ পান। এ ছাড়া কোনও গোলমালের আশঙ্কায় আটক করা হয়েছে এমন ভোটারদেরও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের সুযোগ দেওয়া হয়।

বস্তুত, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুম ঘিরে বিতর্কও এই পোস্টাল ব্যালটকে ঘিরেই। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ ছিল, সেখানে নিয়ম না-মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজ করা হয়েছে। যদিও পরে কমিশন জানিয়েছিল, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ইমেল করে জানানো হয়েছিল।

এ সবের মধ্যেই সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে গণনাপর্ব। গণনা শুরুর চার ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ, দুপুর ১২টার মধ্যেই ভোটের ফলের প্রাথমিক ধারণা আসতে শুরু করে। অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যেই কয়েক রাউন্ডের গণনা শেষ হয়। ফলে কারা জিতছেন, কারা হারছেন— তার প্রাথমিক আভাস ওই সময় থেকেই মোটামুটি স্পষ্ট হতে শুরু করে দেয়। তবে যে কেন্দ্রগুলিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে, সেগুলি ব্যতিক্রমী। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়— কোনও একটি রাউন্ডের শেষে এক জন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন, আবার পরের রাউন্ডেই অপর প্রার্থী এগিয়ে যান।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Postal Ballot EVM
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy