গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কোনও রকম ঢিলেমি সহ্য করা হবে না। ফলঘোষণার আগের দিন এ ভাবেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সতর্কবার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার অগ্রবাল। রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কাউন্টিং এজেন্টরা ভোট গণনাকেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না বলেও জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
কমিশন থেকে আবার জানানো হয়েছে, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে প্রোটোকল অনুযায়ী পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা থাকবেন গণনাকেন্দ্রে। প্রতি স্তরের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। রবিবার সিইও জানান, যদি দ্বিতীয় স্তরে কোনও অনিয়ম ধরা পড়ে তবে প্রথম স্তরের নিরাপত্তা কর্মীদের দায় নিতে হবে। আবার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। এর কোনও রকম অন্যথা হবে না।
ভোটগণনার জন্য আগেই অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক (কাউন্টিং অবজ়ার্ভার) নিয়োগ করার কথা জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিয়োগ করা হচ্ছে আরও পুলিশ পর্যবেক্ষকও। সব মিলিয়ে মোট ২৪২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, গণনা পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসার ব্যতীত আর কেউ মোবাইল নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ফর্ম-১৭সি-টু-তে ফলাফল লেখা হবে, তা ‘কাউন্টিং সুপারভাইজ়র’ প্রস্তুত করবেন। কাউন্টিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকবেন এবং তাঁরা সই করবেন। প্রতিটি টেবিলে উপস্থিত মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে আলাদা করে ফলাফল লিখে রাখতে হবে। রবিবার একটি নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, ভোটগণনা কর্মীদের মোবাইল নম্বর কোনও ভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। নম্বর প্রকাশ পেলেই পদক্ষেপ করা হবে। এই মর্মে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-দের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের জন্য এক জন করে পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে মোট ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁদের কাজ গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা দেখা। কমিশন জানিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা গণনাকক্ষের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাঁরা অন্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:০০
গণনাকর্মীদের মোবাইল নম্বর প্রকাশিত হলে কড়া পদক্ষেপ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন -
১৮:১৬
এ বার বর্ধমানে স্ট্রংরুম-বিতর্ক! সিসি ক্যামেরা কেন বন্ধ? কারচুপি সন্দেহে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল নেতৃত্ব -
১৭:৪৪
কোথায় কোন আসনের গণনা? রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভার গণনা কোন ৭৭ কেন্দ্রে? বিশদ তালিকা দিল নির্বাচন কমিশন -
১৬:৪৯
জয় নিয়ে প্রত্যয়ী শমীক! গণনার আগে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন, কেউ যেন হিংসায়, অশান্তিতে জড়িয়ে না পড়েন -
১৪:৪৪
কোন জেলায় কাজ করবেন কত জন গণনা পর্যবেক্ষক? জানিয়ে দিল কমিশন, সবচেয়ে বেশি উত্তর ২৪ পরগনায়, কম কোথায়