Advertisement

নবান্ন অভিযান

এ বার বর্ধমানে স্ট্রংরুম-বিতর্ক! সিসি ক্যামেরা কেন বন্ধ? কারচুপি সন্দেহে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল নেতৃত্ব

তৃণমূলের দাবি, রবিবার আউশগ্রাম বিধানসভার স্ট্রংরুমে থাকা সিসি ক্যামেরা প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বন্ধ ছিল। তারা তথ্য দিয়ে জানায়, সকাল ৯টা ২৪ মিনিট থেকে ১০টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত ক্যামেরা বন্ধ ছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ১৮:১৬
তৃণমূলের অভিযোগ, দীর্ঘ ক্ষণ ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তৃণমূলের অভিযোগ, দীর্ঘ ক্ষণ ফুটেজ পাওয়া যায়নি। —নিজস্ব চিত্র।

সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকার প্রতিবাদে এ বার স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ভোটের ফল ঘোষণার একদিন আগে উত্তপ্ত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসের ইউআইটি ভবন এলাকা।

বর্ধমান ইউআইটি ভবন জেলার পাঁচটি বিধানসভা— আউশগ্রাম, ভাতার, গলসি, বর্ধমান উত্তর ও বর্ধমান দক্ষিণের স্ট্রংরুম। তৃণমূলের দাবি, রবিবার আউশগ্রাম বিধানসভার স্ট্রংরুমে থাকা সিসি ক্যামেরা প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বন্ধ ছিল। তারা তথ্য দিয়ে জানায়, সকাল ৯টা ২৪ মিনিট থেকে ১০টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত ক্যামেরা বন্ধ ছিল।

অন্য দিকে, জেলাশাসক শ্বেতা অগ্রবাল জানান, বিদ্যুৎ পরিষেবায় যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। কিন্তু বিকেলে আউশগ্রাম বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারের নেতৃত্বে ইউআইটি বিল্ডিংয়ের মূল গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি স্বরাজ ঘোষ জানান, সিসি ক্যামেরার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও সুরাহা হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সকাল থেকেই নজর রাখছিলাম। হঠাৎ দেখি সিসি ক্যামেরা বন্ধ। সঙ্গে সঙ্গে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাই।’’

স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল।

স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল। —নিজস্ব চিত্র।

একই অভিযোগ করেন জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সেখ আবজল রহমান। তিনি বলেন, “আমরা ওই সময়ের ফুটেজ দেখতে চেয়েছি। কিন্তু কমিশন তা দেখাতে পারেনি।’’ আউশগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্নের অভিযোগ, ‘‘গোটা বিষয়টি নিয়ে আমরা শঙ্কায় ছিলাম। ওই ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজ চাইছিলাম। পাইনি।’’

বেশ কিছু ক্ষণ ধর্না চলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সাঁজোয়া গাড়ি। সিএপিএফ জওয়ানেরা যান। খবর পেয়ে উপস্থিত হন বর্ধমান থানার আইসি। তিনি ধর্নায় থাকা তৃণমূল নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের জানান, ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সেখান থেকে উঠে যেতে হবে। বেশ কিছু ক্ষণ কথাবার্তার পরে অবশেষে অবস্থান তুলে নিয়েছে তৃণমূল।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Strong Room Bardhaman cctv footage
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy