ভোট গণনায় সাহায্য করার জন্য গণনা পর্যবেক্ষক (কাউন্টিং অবজার্ভার) নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। কোথায়, কত জন গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ করেছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি (ফলতা ব্যতীত) আসনে ভোট গণনা হবে। তবে শনিবার কমিশন এই সংক্রান্ত যে তালিকা প্রকাশ করে, তাতে ২৯৪টি আসনের উল্লেখ রয়েছে। সেই তালিকা অনুসারে ওই আসনগুলিতে মোট ৪৩২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি আসনে ৪৯ জন গণনা পর্যবেক্ষক রয়েছেন। রাজ্যে সেটাই সর্বাধিক। সবচেয়ে কম আলিপুরদুয়ারে। সেখানে পাঁচটি আসনে ছ’জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
গণনা পর্যবেক্ষকের সংখ্যার নিরিখে উত্তর ২৪ পরগনার পরে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে ৩১টি আসনে ৪৫ জন পর্যবেক্ষক থাকার কথা সোমবার। যদিও সেখানে একটি (ফলতা) আসনে সোমবার গণনা হবে না। তাই ওই জেলায় বাকি ৩০টি আসনে জন্য মোট কত জন পর্যবেক্ষক সোমবার কাজ করবেন, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি কমিশন। কলকাতা (উত্তর এবং দক্ষিণ)-র ১১টি আসনে গণনা পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ১২। পূর্ব বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টি করে আসনে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২৬। নদিয়ায় ১৭টি আসনে গণনা পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২৫। হাওড়ায় ১৬টি আসনে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২৫। হুগলিতে ১৮টি আসনে ২৪ জন। বীরভূমে ১১টি আসনে ১২ জন, বাঁকুড়ায় ১২টি আসনে ১৫ জন, কোচবিহারে ন’টি আসনে ১১ জন, দক্ষিণ দিনাজপুরে ছ’টি আসনে সাত জনকে পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। দার্জিলিঙে পাঁচটি আসনে ১০ জন, মুর্শিদাবাদে ২২টি আসনে ৩৩ জন, পুরুলিয়ায় ন’টি আসনে ১৫ জন, পশ্চিম বর্ধমানে ন’টি আসনে ১৮ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, ওই পর্যবেক্ষকদের কাজ হবে গণনা প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা। তা ছাড়া গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ করা হচ্ছে।
শনিবার কমিশন জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ১৬৫ জন অতিরিক্ত কাউন্টিং অবজ়ার্ভার বা গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। যে সব বিধানসভা কেন্দ্রে একাধিক গণনাকক্ষ রয়েছে, সেখানে ওই ‘অতিরিক্ত’ পর্যবেক্ষকরা কাজ করবেন। তাঁরা আগে থেকে নিয়োগ করা পর্যবেক্ষকদের সাহায্য করবেন।
আরও পড়ুন:
প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের জন্য এক জন করে পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে মোট ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁদের কাজ গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা দেখা। কমিশন জানিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা গণনাকক্ষের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাঁরা অন্যান্য নির্বাচনী কর্মীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত