Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটগণনার আগে উত্তপ্ত নোয়াপাড়া! বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে চলল গুলি, পুলিশ গ্রেফতার করল দুই অভিযুক্তকে

গুলিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। সূত্রের খবর, ওই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ১৩:০৯
Allegations of firing at BJP leader\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s house in Noapara, North 24 Pargana

বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাল দুই দুষ্কৃতী। ছবি: সংগৃহীত।

ভোটগণনার আগে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া। শনিবার রাতে নোয়াপাড়ার গারুলিয়ায় বিজেপি নেতা কুন্দন সিংহের বাড়ি লক্ষ্য করে পর পর দু’রাউন্ড গুলি চলল। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলআশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও (যদিও সেই ফুটেজের সত্যতা যাচাই কেরনি আনন্দবাজার ডট কম) ছড়িয়ে পড়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, শনিবার রাতে বাইকে চেপে আসেন দু’জন। বাইকটি থামে কুন্দনের বাড়ির সামনে। বাইকের পিছনে বসা যুবক নেমে বাড়ি লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালান। তার পরেই বাইকে চেপে চম্পট দেয় দু’জন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক কুন্দনের দাবি, ‘‘কেন আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাল, তা জানি না। সিসিটিভি দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে পেরেছি। ওরা তৃণমূলআশ্রিত দুষ্কৃতী। ওদের ছবি অনেক তৃণমূল নেতার সঙ্গে রয়েছে।’’ নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহও সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে একই অভিযোগ করেছেন।

গুলিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। সূত্রের খবর, ওই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। বাইকের চালকের আসনে ছিলেন আকাশ চৌধরি নামে এক যুবক। আর বাইকের পিছনে ছিলেন আমনদীপ চৌধরি। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে। রবিবারই তাঁদের আদালতে হাজির করিয়ে নিজেদের হেফাজতে চেয়েছে পুলিশ। যে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালানো অভিযোগ, তা উদ্ধার করা হয়েছে। সেই বন্দুক থেকে গুলি চলেছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

বিজেপির অভিযোগ, ভোটের গণনার আগে এলাকায় ভয়ের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের সঙ্গে আততায়ীদের যোগ রয়েছে বলে দাবি বিজেপির। যদিও বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তৃণাঙ্কুরের দাবি, তিনি দুষ্কৃতীদের চেনেন না। এ-ও জানান, ঘটনার সঙ্গে যাঁরাই যুক্ত থাকুন না কেন, সকলকে গ্রেফতার করে আইন মেনে শাস্তি দেওয়া হবে। জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সোমমনাথ শ্যামের দাবি, এই হামলা পরিকল্পনা করেছে বিজেপি নিজেরাই।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Noapara BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy