বিধাননগরে স্ট্রংরুমের বাইরে ক্যাম্প অফিসের তাঁবু খাটানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা ছড়াল। বিজেপির অভিযোগ, তাদের তাঁবুতে নিজেদের দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। অন্য দিকে, তৃণমূলের দাবি, স্ট্রংরুমের বাইরে কারা কোথায় তাঁবু বসাবে, তা নিয়ে কোনও আলোচনা না-করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। দু’পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্ট্রংরুমের বাইরে। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় পক্ষকেই আলাদা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ান এবং পুলিশ আধিকারিকেরা।
বাগ্বিতণ্ডার সময়ে তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলেরই কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হয়ে যান সেখানে। উভয় পক্ষই স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগান তুলতে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। মাইক প্রচার করে দু’পক্ষকে এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয় পুলিশের তরফে। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলের কর্মীদেরই সেখানে জমায়েত না-করার জন্য অনুরোধ করে পুলিশ।
পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও দু’পক্ষের কর্মীদেরই বিক্ষিপ্ত জটলা রয়েছে। উত্তেজনার সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, তিনি স্ট্রংরুমে ছিলেন। হট্টগোল শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
তাপস বলেন, “আমরা (বিজেপি-কে) বললাম, আপনারা ও দিকে থাকুন। আমরা এ দিকে থাকি। তার পরে সকালে সিপি সাহেবের সঙ্গে মিটিং হোক। ওরা বলছে, ওদের (তাঁবুর) সামনে আমাদের চারটে পতাকা আছে।” কী ভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, “এটা আমি বলতে পারব না। আমি ভিতরে ছিলাম। শুনে বাইরে এসেছি। সিনিয়র রাজনীতিক হিসাবে চেষ্টা করেছি যাতে শান্তি ফেরানো যায়।” তাঁর দাবি, সিআরপিএফ লাঠিচার্জ করেছে। তা-ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা সিআরপিএফ-এর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, “আমরা এত ভোট করেছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি আমরা দেখিনি।”
অন্য দিকে, বিজেপি তাদের তাঁবুতে তৃণমূলের পতাকা লাগানো নিয়ে যে অভিযোগ তুলছে, সে প্রসঙ্গে তাপস বলেন, “আমি জানি না। কার তাঁবু, কে অনুমোদন দিয়েছে— আমরা জানি না। তিনটে তাঁবু ওঁদেরই থাকবে, আর তৃণমূলের কোনও তাঁবু থাকবে না— এটা তো হতে পারে না।” তাপসের বক্তব্য, বিধাননগরের এই স্ট্রংরুমে তিনটি বিধানসভা আসনের ইভিএম রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোন তাঁবু কোন পক্ষ নেবে, কী ভাবে তা বণ্টন হবে সেই বিষয়গুলি দেখা দরকার বলেই মনে করছেন তিনি। অন্য দিকে তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে বিজেপির নেতা-কর্মীরা বলেন, “ওরা হল ডুবন্ত মানুষ। খড়কুটো দেখলেই ধরে নিচ্ছে। ওদের অবস্থা খুব খারাপ। আমাদের তৈরি ক্যাম্পে ওরা ঝান্ডা বসাচ্ছে। এটা আমরা মেনে নেব না।”
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চাপানউতর শুরু হয়েছে। যার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কলকাতার দুই স্ট্রংরুম— ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। সেই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা। অন্য দিকে, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন ভবানীপুরের স্ট্রংরুম রয়েছে সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে। মমতা নিজে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ‘পাহারা’ দেন স্ট্রংরুম। ওই সময়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাসও ছিলেন স্ট্রংরুমের পাল্টা ‘পাহারায়’।
তার পরেও স্ট্রংরুম ঘিরে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতর চলছেই। শনিবারও উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে স্ট্রংরুম ঘিরে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে উত্তাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সিসিটিভির ডিসপ্লে মনিটর কিছু ক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও কমিশন সূত্রে দাবি করা হয়, সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল না। ডিসপ্লে মনিটরটি কোনও কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পর পর এই উত্তেজনার মাঝে রবিবার সকাল থেকে সব স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৯:৫৮
বিজেপি কম ব্যবধানে এগোলেই পুনর্গণনার দাবি! গণনাকেন্দ্রের অদূরে হোটেল ভাড়া করে রাত কাটাতে হবে প্রার্থীদের: মমতা -
১৯:২১
ইভিএম ‘পাহারায়’ তৎপরতা বিজেপিরও! রবিবার রাজ্যে সব স্ট্রংরুমের সামনে পদ্মশিবিরের মহিলা কর্মীরা বসছেন অবস্থানে -
১৬:৫২
‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার যাঁরা সয়েছেন, তাঁরা পুরস্কৃত হবেন’! বড় জয় নিয়ে প্রত্যয়ী মমতা ও অভিষেকের বার্তা দলীয় বৈঠকে -
১৫:৪০
আবার অশান্ত ফলতা! দফায় দফায় উত্তেজনা, পুনর্নির্বাচনের দাবি তুললেন গ্রামবাসীদের একাংশ, রিপোর্ট তলব কমিশনের -
১০:৩১
নিজেদের বিজ্ঞপ্তি মেনে কাজ করবে কমিশন! প্রয়োজন নেই অতিরিক্ত নির্দেশের, তৃণমূলের মামলায় বলে দিল সুপ্রিম কোর্ট