মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা বারুদের স্তূপ সরানোর সময়ে বিস্ফোরণে মৃত্যু হল চার পুলিশকর্মীর। শনিবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তীসগঢ়ের কাঁকের এলাকায়। গত ৩১ মার্চ ছত্তীসগঢ়কে ‘মাওবাদীমুক্ত’ বলে ঘোষণা করে প্রশাসন। তার পর থেকে এই প্রথম কোনও বিস্ফোরণ ঘটল, যেটির সঙ্গে মাওবাদী-যোগ রয়েছে।
শনিবার সকালে ছত্তীসগঢ়ের কাঁকের এবং নারায়ণপুর জেলার সীমানায় একটি জঙ্গলে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযান চলাকালীনই ছোটবেথিয়া থানা এলাকায় একটি গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ প্রথমে জানিয়েছিল, একটি ইম্প্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) নিষ্ক্রিয় করার সময়ে বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানান, জঙ্গলের মধ্যে বারুদের স্তূপ জমানো ছিল। মাওবাদীরা যে সময়ে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন, সেই সময়ে এই বারুদ জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
ছত্তীসগঢ় পুলিশের বস্তার রেঞ্জের ডিআইজি সুন্দররাজ পাত্তিলিঙ্গম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীদের একটি যৌথ দল মাওবাদীদের ফেলে রাখা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়েই বিস্ফোরণটি হয়েছে। তিনি আরও জানান, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী এবং অন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোটা বস্তার রেঞ্জ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমন বিস্ফোরক উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শনিবারও তেমনই একটি অভিযান শুরু হয়েছিল ছোটবেথিয়ার জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে প্রথমে একটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে কম্পিউটার, প্রিন্টার-সহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখা ছিল। এর অদূরেই আরও একটি আস্তানার সন্ধান পায় যৌথ বাহিনী। সেখানে পাঁচটি বস্তা রাখা ছিল। এক একটি বস্তায় প্রায় ১৫ কেজি করে বিস্ফোরক রাখা ছিল। পুলিশ সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, মূলত পটাশিয়াম নাইট্রেন এবং বেরিয়াম নাইট্রেটের মিশ্রণ লুকিয়ে রাখা ছিল সেখানে। ওই বিস্ফোরক পদার্থ সরানোর সময়েই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।